কলকাতা হাই কোর্টে বড় আইনি ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করেছে, সেই সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল শিবিরটি। তবে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।
ফলে আপাতত ইডির ফ্রিজ় করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আগের মতোই অচল থাকবে। আদালত জানিয়েছে, এই পর্যায়ে অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছে না।
৪৪০ কোটি টাকার তিনটি অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিতর্ক
মামলার নথি অনুযায়ী, ইডি তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করেছে, যেখানে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল কালীঘাট শিবির। তাদের দাবি ছিল, দৈনন্দিন সাংগঠনিক ও আইনি খরচ চালানোর জন্য ওই তহবিল ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে আদালত এই পর্যায়ে ইডির সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে রাজি হয়নি।
আগের নির্দেশই বহাল
যদিও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ মেলেনি, আদালত স্পষ্ট করেছে যে আগের নির্দেশ কার্যকর থাকবে। এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ় হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের সীমিত অনুমতি দিয়েছিল।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী, আদালতের নিয়োগ করা স্পেশ্যাল অফিসার-এর তত্ত্বাবধানে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলতে হলে অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষরের পাশাপাশি স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক থাকবে।
৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে স্পেশ্যাল অফিসার
আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুসারে, স্পেশ্যাল অফিসার ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তদারকি করবেন। প্রয়োজন হলে আইনি খরচসহ অনুমোদিত ব্যয়ের জন্যও ওই তহবিল ব্যবহার করা যাবে, তবে তা আদালত নির্ধারিত শর্ত মেনেই করতে হবে।
এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী স্বস্তি না মেলায় কালীঘাট শিবিরের সামনে আইনি লড়াই আরও জটিল হল বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।