কলকাতায় ২১ জুলাই শহিদ দিবসের (Martyrs’ Day) সমাবেশ ঘিরে এবার শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। জেলা থেকে আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জন্য ডিম-ভাত, সয়াবিনের তরকারি এবং রাতের থাকার ব্যবস্থা করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র (Khudiram Anushilan Kendra) এবং একাধিক গেস্ট হাউসে কর্মীদের রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ২১ জুলাই মানেই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে ঘিরে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় একই দিনে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত তৃণমূল। একদিকে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রত শিবির জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য আগেভাগেই থাকা-খাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে ডিমের ঝোল-ভাত ও সয়াবিন। থাকার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের পাশাপাশি শহরের কয়েকটি গেস্ট হাউসও।
অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের তরফে এ বছর আগের মতো বড় আকারে কর্মীদের থাকার বা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও সীমিত পরিসরে কিছু আয়োজন রাখা হয়েছে বলে দলীয় অন্দরের দাবি। এই পরিস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বহু বছরের ২১ জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ডিম-ভাত’ আয়োজনও কি এবার কার্যত ঋতব্রত শিবিরের হাতেই চলে গেল?
এবারের শহিদ দিবসকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আদালতের নির্দেশ। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) রবীন্দ্র সদন (Rabindra Sadan)-সংলগ্ন তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় উপস্থিতির সংখ্যা ৩ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, দু’দিকের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না বলেও আদালত জানিয়েছে।
শুধু তৃণমূল নয়, একই দিনে প্রদেশ কংগ্রেসও শহিদ মিনার (Shaheed Minar)-চত্বরে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করছে। জেলা থেকে আসা কংগ্রেস কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) এবং শহরের কয়েকটি ধর্মশালায়। ধর্মশালাগুলিতে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও যুবভারতীতে ডিম-সহ খাবারের আয়োজন রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ বছরের ২১ জুলাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের লড়াই নয়, সংগঠন, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক প্রস্তুতি সেই পরিবর্তনের ছবিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।