লুব্রিক্যান্ট (Lubricant) শব্দটা শুনলেই অনেকেই লজ্জায় মুখ লুকান। অথচ চিকিৎসকরা বলছেন, এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই একটা জরুরি অংশ। শুধু যৌন জীবনেই নয়, স্বাস্থ্যগত নানা কারণেও লুব্রিক্যান্টের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু লুব্রিক্যান্ট আসলে কী? কখন ব্যবহার করবেন? কারা ব্যবহার করতে পারেন? আর ব্যবহারের আগে কী কী সাবধানতা দরকার? জেনে নিন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে সম্পূর্ণ তথ্য।
লুব্রিক্যান্ট কী?
লুব্রিক্যান্ট এক ধরনের জেল (Gel) বা তরল পদার্থ, যা শরীরের দুইটি তলের মধ্যে ঘর্ষণ (Friction) কমায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এটি এক ধরনের ময়েশ্চারাইজার। লুব্রিক্যান্ট সাধারণত যৌনমিলনের সময় যোনিপথের (Vagina) শুষ্কতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। তবে শুধু যৌন জীবনেই নয়, মেডিক্যাল পরীক্ষা, ক্যাথেটার (Catheter) প্রবেশ করানো বা শরীরে কোনও যন্ত্র ঢোকানোর সময়ও লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা হয়। বাজারে এখন জলের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে জল-ভিত্তিক (Water-based), তেল-ভিত্তিক (Oil-based) ও সিলিকন-ভিত্তিক (Silicone-based) লুব্রিক্যান্ট পাওয়া যায়।
কখন লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করা হয়?
১. যোনিপথের শুষ্কতা দূর করতে: অনেক মহিলারই মেনোপজের (Menopause) পর বা প্রসবের (Childbirth) পরে যোনিপথ শুকিয়ে যায়। এর ফলে যৌনমিলনের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। লুব্রিক্যান্ট এই শুষ্কতা দূর করে।
২. যৌনমিলনের সময় ঘর্ষণ কমাতে: অনেক সময় প্রাকৃতিক লুব্রিকেশন পর্যাপ্ত না হলে যৌনমিলনে কষ্ট হয়। লুব্রিক্যান্ট এটাকে আরামদায়ক করে তোলে।
৩. মেডিক্যাল পরীক্ষার সময়: আল্ট্রাসাউন্ড, প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট (Pap Smear Test) বা কোলনোস্কোপির (Colonoscopy) সময় ডাক্তাররা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করেন।
৪. কন্ডোম ব্যবহারের সময়: কন্ডোমের সঙ্গে লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করলে ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
কারা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন?
চিকিৎসকদের মতে, যেকোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা মহিলা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে—
-
যাঁদের যোনিপথ স্বাভাবিক ভাবেই শুষ্ক
-
মেনোপজের পরবর্তী মহিলারা
-
প্রসবের পরবর্তী মহিলারা
-
যাঁরা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ (যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা অ্যান্টিহিস্টামিন) খান, যার কারণে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়
-
যাঁরা কন্ডোম ব্যবহার করেন
কী ধরনের লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করবেন?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জল-ভিত্তিক লুব্রিক্যান্টই সবচেয়ে নিরাপদ। এটা কন্ডোমের ক্ষতি করে না এবং ত্বকেও কোনও প্রতিক্রিয়া করে না। তেল-ভিত্তিক লুব্রিক্যান্ট কন্ডোমের ক্ষতি করতে পারে আর সিলিকন-ভিত্তিক লুব্রিক্যান্ট বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকে, তবে সিলিকনের তৈরি খেলনা বা জিনিসপত্রের সঙ্গে ব্যবহার করলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ব্যবহারের আগে যে সাবধানতাগুলো জরুরি:
১. কেনার আগে উপাদান পড়ুন: প্যারাবেন (Paraben) বা গ্লিসারিন (Glycerin) দেওয়া লুব্রিক্যান্ট এড়িয়ে চলুন। এগুলো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. অ্যালার্জি টেস্ট করে নিন: প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের ত্বকে একটু লাগিয়ে দেখুন। চুলকানি বা জ্বালা করলে ব্যবহার করবেন না।
৩. ডাক্তারের পরামর্শ নিন: যদি বারবার শুষ্কতার সমস্যা হয়, তাহলে শুধু লুব্রিক্যান্টেই ভরসা না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
লুব্রিক্যান্ট কোনও লজ্জার জিনিস নয়, বরং এটা অনেক শারীরিক সমস্যারই সহজ সমাধান। সঠিক জিনিসটা বেছে নিয়ে, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে শরীরও ভালো থাকে, মনও ভালো থাকে।