দাম্পত্য জীবন মানেই শুধু ভালোবাসা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শারীরিক ও মানসিক নানা দিক। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, স্বামী বা স্ত্রী— কেউই আর আগের মতো আগ্রহী নন। একঘেয়েমি, ক্লান্তি, অশান্তি— সব মিলিয়ে সম্পর্কে নেমে আসে অনীহা। এই অনীহা কেন আসে? এর পেছনে কি শুধু মানসিক কারণ, নাকি শারীরিক সমস্যাও দায়ী? জেনে নিন দাম্পত্য জীবনে অনীহা আসার ৫টি প্রধান কারণ ও তার সহজ সমাধান।
১. মানসিক চাপ ও ক্লান্তি (Stress & Fatigue)
সারাদিন অফিস, সংসার, বাচ্চার দেখভাল— সব মিলিয়ে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে রাতে বিছানায় আসার পর আর কিছুতেই উৎসাহ থাকে না। মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল (Cortisol) হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দেয়।
সমাধান: প্রতিদিন ১০ মিনিট করে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন। অফিসের কাজ অফিসেই রেখে আসুন। প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।
২. শারীরিক সমস্যা ও হরমোনের পরিবর্তন
অনেক সময়ই অনীহা কোনো মানসিক কারণে নয়, সরাসরি শারীরিক কারণে হয়। পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোন কমে গেলে বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction) থাকলে আগ্রহ কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের (Menopause) পর ইস্ট্রোজেন (Estrogen) কমে গেলে যোনিপথ শুকিয়ে যায়, সহবাসে ব্যথা হয়, ফলে অনীহা আসে।
সমাধান: লজ্জা না করে ডাক্তার দেখান। হরমোন থেরাপি বা সাধারণ ওষুধেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
৩. একঘেয়েমি ও রুটিনে আটকে পড়া
বিয়ের কয়েক বছর পরই অনেক সম্পর্কে একঘেয়েমি চলে আসে। রোজ একই রুটিন— খাওয়া, অফিস, ঘুম। শারীরিক সম্পর্কেও কোনও নতুনত্ব থাকে না। ফলে অনীহা তৈরি হয়।
সমাধান: একসঙ্গে ঘুরতে যান। সারপ্রাইজ দিন। সম্পর্কে নতুনত্ব আনতে ছোট ছোট চমক রাখুন।
৪. অমীমাংসিত অভিমান ও যোগাযোগের অভাব
অনেক সময়ই ছোট ছোট কথা জমতে জমতে বড় অশান্তির রূপ নেয়। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলেন না। অমীমাংসিত অভিমান চেপে রেখে বিছানায় আসেন। ফলে শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে যায়।
সমাধান: রোজ রাতে ঘুমানোর আগে ১০ মিনিট করে একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন। অভিমান জমিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজনে সম্পর্ক পরামর্শদাতার সাহায্য নিন।
৫. প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার
স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া দাম্পত্য সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বিছানায় এসেও ফোন স্ক্রল করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে শারীরিক সম্পর্কের সময় বা ইচ্ছা— কোনওটাই থাকে না।
সমাধান: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখুন। এই সময়টা শুধু নিজেদের জন্য রাখুন।
শেষ কথা
দাম্পত্য জীবনে অনীহা আসাটা কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে, তার সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্পর্ক বাঁচাতে গেলে দু’জনেরই সমান প্রচেষ্টা দরকার। আর যদি মনে করেন সমস্যাটা একান্তই শারীরিক, তাহলে লজ্জা না করে ডাক্তার দেখান— কারণ সুস্থ দাম্পত্যই সুখী জীবনের চাবিকাঠি।



