কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা (JP Nadda)-র সঙ্গে আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরও অবস্থান বদলালেন না পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। হাসপাতাল থেকেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত অনশন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই। বরং অনশন ভাঙার জন্য সরকারের সামনে নতুন শর্তও তুলে ধরেছেন তিনি, যা ঘিরে আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।
সোমবার নিজের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো (Geetanjali Angmo)-র মাধ্যমে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। সেই চিঠিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চিঠিতে সোনম স্পষ্ট করে লিখেছেন, যতদিন না আন্দোলনকারী তরুণ নেতাদের সংসদ ভবন (Parliament House)-এ গিয়ে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, অথবা তাঁদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, ততদিন তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। তাঁর মতে, সংলাপের পথ খুলে দেওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান হতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার দ্রুত শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহির বিষয়েও পদক্ষেপ করবে। আন্দোলন চলাকালীন নানা উসকানির মুখেও তরুণরা যেভাবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তার প্রশংসাও করেছেন সোনম। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের দাবির দ্রুত ও ইতিবাচক সমাধান হওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার যন্তরমন্তর (Jantar Mantar) থেকে সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতাল (Safdarjung Hospital)-এ ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। এরপর থেকেই জল্পনা ছিল, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার দিন তিনি হয়তো অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করতে পারেন। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন আন্দোলনের মুখ।
সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর দাবি, চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও ধরনের খাবার বা এমনকি তরল খাদ্যও গ্রহণ করেননি। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখলেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন তিনি।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি পর্ব সম্পন্ন হলেও সোনম ওয়াংচুকের নতুন শর্ত স্পষ্ট করে দিল, শুধু বৈঠক নয়, তিনি এখন আন্দোলনকারীদের দাবির বাস্তব অগ্রগতিই দেখতে চান। ফলে আগামী কয়েক দিনে সরকার কী পদক্ষেপ করে, তার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আন্দোলনকারীদের।



