নজরবন্দি ব্যুরো: শুভেন্দুর রক্ত লেগে আছে এখনো মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে, হতাশ পিতা শিশির। নন্দীগ্রাম গণহত্যায় মুখ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তির পর একথাই বলেছেন শিশির অধিকারী। গতকাল টানা ৫দিনের নন্দীগ্রাম পাহারার জন্য পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক ২০১০এর নির্বাচনের মতোই এই বিধানসভা নির্বাচনে একেবারে কেন্দ্রে উঠে এসেছে নন্দীগ্রাম। একদিকে প্রার্থী মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে প্রার্থী তাঁরই প্রাক্তন সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ ‘ফেরেব্বাজ মুখ্যমন্ত্রী’! প্রচারের শেষবেলায় মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমনে বিঁধলেন শুভেন্দু।


সব মিলিয়ে একেবারে হটসিট নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের ভূমি, উত্থানের ভূমি তৃণমূল কংগ্রেসের, আর সেই উত্থান মূলত নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনকে ঘিরেই। গতকাল নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে ১০ বছর আগের ঘটনা তুলে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। যে ঘটনায় দায় এতদিন ছিল বাম সরকারের ওপর,আচমকাই তিনি পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন গতকাল। বিরুলিয়ার সভা থেকে জানিয়েছেন, ” যাঁরা গুলি চালিয়েছিল আপনাদের মনে আছে, পুলিশের ড্রেস পরে এসেছিল অনেকে, নিশ্চয় ভুলে যাননি” তিনি আরো বলেন, নন্দীগ্রামের সব ঘটনা মনে আছে তাঁর, প্রয়োজনে বলে দেবেন ডেট ধরে, তার পরে তিনি বলেন, “এই বাপ ব্যাটার পারমিশন ছাড়া পুলিশ ঢুকতে পারত না সেদিন, দেখুন আমি ভদ্রলোক বলে কিছু বলিনি, ফেয়ার এনাফ”।
তাঁর এই বক্তব্যে কালই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তিনি নন্দীগ্রাম গণহত্যায় কাদের দিকে তুলছেন আঙুল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন হওয়াই চটি পরা পুলিশ এনেছিল শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের সবথেকে স্পর্শকাতর বিষয় এই ভূমি আন্দোলন এবং গণহত্যা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই সময়ের সরকার কে ভুল বুঝেছিল নন্দীগ্রাম সহ গোটা বাংলা। তাঁরা যতবার বলেছিলেন চক্রান্ত, মানুষের আবেগের কাছে হেরে গিয়েছিল তাঁদের যুক্তি। গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর কথার পর সকলে আবার তুলে আনছেন নিজেদের পুরনো কথা, কেউ ক্ষমা চাইছেন, কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাইছেন কোনো দাগ লাগেনি তাঁদের আদর্শে। অন্যদিকে সারসরি দায় দেওয়া হয়েছে যাঁদের তাঁদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন শিশির অধিকারী। তাঁর মতে এই ৮২ বছর বয়েস এবং এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত মিথ্যেবাদী তিনি দেখেননি আর। উনি এত মানুষের কাঁধে পা দিয়ে এসেছেন,সঙ্গে তিনি এও বলেন, শুভেন্দু রক্ত লেগে আছে এখনো মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে, বিচার করবেন উপরওয়ালা, ,বিচার করবেন নন্দীগ্রামের মানুষ।
শুভেন্দুর রক্ত লেগে আছে এখনো মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে, হতাশ পিতা শিশির। তিনি আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বুঝে গিয়েছেন নন্দীগ্রামে হারছেন তিনি, তাই পাগল হয়ে গিয়েছেন। উনার কথা কেউ বিশ্বাস করে না। তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে এটাই প্রথম বার, যখন তাঁর কথা বিশ্বাস করছেন সকলেই।









