নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘ফেরেব্বাজ মুখ্যমন্ত্রী’! প্রচারের শেষবেলায় মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমনে বিঁধলেন শুভেন্দু। একদিকে মমতার রোড শো অন্যদিকে শুভেন্দুর পথসভা। নির্বাচনের আগে শেষবেলায় প্রচারে ঝড় তুলল দুই পক্ষই। একদিকে নন্দীগ্রামে ৮ কিলোমিটার রোড শোর পর তিনটি জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে আজই সেখানে মোট ৫ টি পথসভা করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। গতকালই নন্দীগ্রামে গনহত্যার সমস্ত দায় শিশির-শুভেন্দুর বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। যার উত্তরে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করে বসলেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুনঃ নরকে পরিণত হয়েছে দিলীপের খাসতালুক, স্বর্গ বানাবেন হিরণ!


তৃণমূল সুপ্রিমোকে তীব্র আক্রমন করে তিনি বলেন ‘‘ফেরেব্বাজ মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নন্দী মা বইটি পড়ুন। তা হলেই বুঝতে পারবেন ওঁর দ্বিচারিতা।’’ সেই সঙ্গে মমতার হুইলচেয়ারে সভা করা নিয়ে তিনি বলেন ‘‘ও সব নাটক।’’ সাংবাদিকরা এর পরেই তাঁকে মমতার অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন। নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকতে দেওয়ার সঙ্গে অধিকারী পরিবারের নাম জড়িয়ে মমতা উস্কে দিয়েছিলেন বিতর্ক। শুভেন্দু সে সব নস্যাৎ করে দিয়ে বললেন, ‘‘উনি নিজে লিখেছেন না অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়েছেন জানি না, তবে ওঁর নন্দী মা (বই)-টি উনি নিজে পড়ুন। বইটি তো নিজের লেখা বলে দাবি করেন। আমার বিশ্বাস উনি লেখেন না, অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নিজের নামে প্রচার করেন। পুরোটাই তো মিথ্যা। ফেরেব্বাজ মুখ্যমন্ত্রী। ‘নন্দী মা’-টা পড়ুন, তারপর ওঁর দ্বিচারিতা বুঝতে পারবেন। ও সব আর লোকে খাবে না। ওঁর কাছে লোকে চাকরি চাইছেন, চাকরি নেই। শিল্প চাইছেন, শিল্প নেই।’’
এদিকে আজ নন্দীগ্রাম থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘‘ভোটের সময় তুই আমার পা জখম করেছিস। আমি চেপে গেছি ভদ্রতা করে। আজও আমায় পা ভাঙা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে মিটিং করতে হচ্ছে। তোমার নির্দেশ ছাড়া এ সব হতে পারে না।’’ নন্দীগ্রামে মমতাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এই অভিযোগের উত্তরে শুভেন্দু বলেন ‘‘যদি কেউ ঢুকতেই না দেয়, তা হলে প্রতিবার ভোটের সময় তিনি আসেন কেন? ২০১১, ২০১৬-এর ভোটের আগেও তো উনি এসেছিলেন। আবার ২০২১ সালের ভোটের আগে এসেছেন, এসে নিজে দাঁড়িয়েছেন।’’ শুভেন্দু সোমবার একই মিছিল থেকে নিমতার ঘটনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন তিনি।
‘ফেরেব্বাজ মুখ্যমন্ত্রী’! প্রচারের শেষবেলায় মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমনে বিঁধলেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘নিমতার ঘটনাটি একটি জাতীয় ইস্যু। এটি অমানবিক, বর্বোরচিত ঘটনা। ৮৫ বছরের বৃদ্ধাকে যে ভাবে মেরেছে বেগমের গুন্ডারা, তা নিন্দার কোনও ভাষা নেই। উনি পুলিশ মন্ত্রী, নারী সুরক্ষার কথা বলেন, কিন্তু একজনও গ্রেফতার হয়নি।’’ ভোটের আগে শেষ প্রচার তাই পারদ চড়ছে হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রামে।









