নজরবন্দি ব্যুরো: নরকে পরিণত হয়েছে খড়গপুর! কেন্দ্রের ফান্ড আর ফিরে যেতে দেবেন না হিরণ। দিলীপের খাসতালুকে এবার বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ছেন তারকা প্রার্থী হিরণ। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগ দেওয়া অভিনেতা হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণকে খড়গপুর সদর থেকে প্রার্থী করেছে BJP। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিধানসভা উপ-নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে ঘুরে দাঁড়ানো তৃণমূলকে চাপ দিতেই এই কৌশল। হিরণের সম্মুখ সমরে খড়গপুরের তৃণমূল প্রার্থী ‘ঘরের ছেলে’ প্রদীপ সরকার। এদিকে খোদ দিলীপের গড়ে ভোট প্রচারে বেরিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন অভিনেতা হিরণ।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম আন্দোলনে থাকলে সুফিয়ানের সঙ্গে মামলায় নাম নেই কেন গদ্দারদের? প্রশ্ন মমতার


সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাওয়া হিরণ প্রচারে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, নিজের কেন্দ্রের কোনো কাজ না হওয়া নিয়ে। দিলীপ ঘোষের প্রাক্তন আসনে আজ সোমবার প্রচার করছেন বিজেপির এই অভিনেতা প্রার্থী। এলাকার অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হিরণের মতে, “এখানকার যুব সমাজের কাছে কোনো কাজ নেই, জল নেই, রাস্তা ঘাট নেই, নরকে পরিণত হয়েছে।” এর সঙ্গে তিনি এও যোগ করেছেন রাজ্যের অনেক জায়গায় তৈরি হয়েছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কিন্তু সেসব থেকেও বঞ্চিত খড়গপুর! অভিযোগও করেছেন, কেন্দ্রের ফান্ড আসে, আর এসে আবার ফিরে যায় কিন্তু কাজ হয়না কোনো।
এবার মানুষের জন্য, এবং খড়গপুরের জন্য কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এককথায় তাঁর কেন্দ্র কে নরক থেকে স্বর্গ বানাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে এবং তৃণমূল সরকারের অবহেলার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তা বুমেরাং হয়ে গেলো তার বর্তমান দল বিজেপির জন্যই। খড়গপুর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের খাসতালুক। একাধিক বার তিনি দাবি করেছেন এই জায়গাকে তিনি চেনেন হাতের তালুর মত। এবারেও প্রথম থেকেই জল্পনা ছিল ওই কেন্দ্রে ফের দিলীপ ঘোষকেই দাঁড় করাবে দল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে হিরণ কে এনে চমক অনে বিজেপি। সেই জায়গায় কাজ না হওয়ার খতিয়ান তুলে ধরলে আদপে তা ঘুরে যাবে বিজেপির দিকেই। কয়েকদিন ধরে লাগাতার প্রচার করছেন বিজেপির এই অভিনেতা প্রার্থী। একেবারে গ্রাউন্ড লেবেলে নেমে তৈরি করছেন জনসংযোগ। কিন্তু দিলীপ ঘোষের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে কোনো রকম কাজ না হওয়া, এবং কেন্দ্রীয় ফান্ড এসে ফিরে যাওয়ার কথা বলে প্রার্থী নিজের দলের হয়েই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।









