নন্দীগ্রাম আন্দোলনে থাকলে সুফিয়ানের সঙ্গে মামলায় নাম নেই কেন গদ্দারদের? প্রশ্ন মমতার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নন্দীগ্রাম আন্দোলনে থাকলে সুফিয়ানের সঙ্গে মামলায় নাম নেই কেনো গদ্দারদের? নন্দীগ্রাম থেকেই প্রশ্ন তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিজের কেন্দ্র কে আগলে রাখতে প্লাস্টার পা নিয়েই নন্দীগ্রামে দলনেত্রী। আজ সকাল থেকে পথসভা করছেন তিনি। তবে আহত হওয়ার ১৮ দিন পরে নন্দীগ্রামে পা রেখেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে আনছেন তিনি। দিচ্ছেন যুক্তিও। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এসব ব্রহ্মাস্ত্র একেবার শেষ মুহূর্তের জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিজেপিতে শুভেন্দু অধিকারী যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো সহ দলের সকল নেতা মন্ত্রীরা একযোগে বলছেন শুভেন্দু গদ্দার, মীরজাফর।

আরও পড়ুনঃ ‘রাজনীতিটা অভিসার নয়’, মদন মিত্রের সাথে দোল খেলার জন্য ৩ বিজেপি তারকা প্রার্থীকে কটাক্ষ তথাগতর

অধিকারী পরিবার যখন বারবার দাবি করেছেন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরাই, তাঁদের জন্যই এই জনপ্রিয়তা, মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু বলেছেন উল্টো কথা। আজকের সভা থেকে ফের একই কথা বললেন তিনি। বাকি ৭ দফায় সুষ্ঠ এবং শান্তপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আজই কমিশনের মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এজেন্ট সহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে কমিশনে গেছে বিজেপি। দাবী যাঁদের নামে মামলা আছে বা অসামাজিক কাজে যুক্ত তাঁরা প্রভাবিত করতে পারেন নির্বাচন। এর আগেও নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ রক্ষা কমিটির মেম্বারদের নামে মামলা করেছিল বিজেপি, তার ফলস্বরূপ নন্দীগ্রামে সভা করতে একাধিক বাধা পেয়েছেন সেখানের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী।

আজ সেই প্রসঙ্গ তুলে এনে মমতা যুক্তি দিয়ে বোঝালেন, নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনের কোনো ভূমিকা নেই অধিকারী পরিবারের। মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, “নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জন্য ৪১ জনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা শুরু করেছে, সেখানে বাম রয়েছে সুফিয়ানের, কিন্তু কই গদ্দার দের নাম নেই কেনো?” উত্তরও দিয়েছেন নিজেই, জানিয়েছেন কারণ ওরা ছিল না আন্দোলনে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, সুফিয়ানকে ১৪ই মার্চ ডেকে এনেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী নিজে, তার পর চলে যান তিনি। প্রসঙ্গত গতকালই নন্দীগ্রামের গণহত্যার পিছনে যে হাত আছে শুভেন্দু শিশিরের সেকথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের একেবারে মুখে এসে ১০ বছরের পুরনো স্পর্শকাতর ঘটনা তুলে এনেছেন সামনে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই সময়ের বাম সরকারের দিকে উঠেছিল আঙুল। আর নন্দীগ্রামই মোড় ঘুরিয়েছিল সরকারের। বাম জামানার অবসান ঘটে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমতার ১০ বছরের মাথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন সেই ঘটনার পরিকল্পনা ছিল অধিকারী পরিবারের। অন্যদিকে শিশির অধিকারী বলছেন ব্লু প্রিন্ট মমতার, তিনি এও বলেছেন ৮২ বছরে তাঁর মত মিথ্যেবাদী দেখেন নি। তবে আজকের সভা থেকে অধিকারী পরিবারের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগ প্রবণও হয়ে উঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করেই বলেন, ” কী দিইনি? আমার ভালোবাসার নন্দীগ্রাম দিয়েছি, ক্ষমতা দিয়েছি, বাড়ির লোকেরা সরকারি চাকরি করছে কেউ না কেউ, তবু গদ্দাররা হাত মিলিয়েছে বিজেপির সঙ্গে।”

তবে তাঁর সঙ্গে তিনি এও বলেন, একদিন এমন অবস্থা হবে, না ঘর কা থাকবে, না ঘাটকা, সেদিন বুঝতে পারবে কী করেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় যে অধিকারী পরিবার এবং মূলত শুভেন্দু অধিকারী তা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামে হতে চলেছে নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী নাকি শুভেন্দু কার ডাকে সাড়া দেবেন মানুষ , আর কাকে এপ্রিল ফুল করবেন, তা বলবে ২রা মে’র ফলাফল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত