২০২৬ সাল টিম ইন্ডিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ। ঠিক এই সময়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হল শ্রেয়স আইয়ার-কে ঘিরে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করতে গিয়ে পাওয়া চোটের পর তাঁর ফিটনেস নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল, তা আরও জোরালো হচ্ছে।
সম্প্রতি শ্রেয়স BCCI-এর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে অনুশীলন শুরু করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, তিনি দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফি-তে মুম্বইয়ের হয়ে নামতে পারবেন। আইপিএল মিনি নিলামের সময়েও শ্রেয়স নিজে জানিয়েছিলেন, তিনি অনেকটাই সুস্থ।
তবে সাম্প্রতিক মেডিক্যাল রিপোর্ট সেই আশায় জল ঢেলেছে। BCCI-এর এক কর্তা টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, চোটের পর শ্রেয়সের প্রায় ৬ কেজি ওজন কমেছে। এর সঙ্গে পেশির ক্ষয়ও হয়েছে, যা তাঁর স্ট্রেংথ ও ফিটনেসে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাটিংয়ে সমস্যা না থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এড়াতেই মেডিক্যাল টিম সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
ওই কর্তার কথায়, “শ্রেয়স আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। তাই ওকে নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছি না। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ়ের দল ঘোষণার আগে ওর ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এই পরিস্থিতিতে বিজয় হাজারে ট্রফিতে শ্রেয়সের ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ। মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের স্পষ্ট করে বলা হয়েছে ‘ধীরে চলো’ নীতি নিতে। জানুয়ারি মাসের ৩ ও ৬ তারিখ মুম্বইয়ের হয়ে যে দু’টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল শ্রেয়সের, সেগুলিতেও তাঁকে পাওয়া যাবে না।
BCCI সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ জানুয়ারি শ্রেয়স আইয়ারের ফিটনেস নিয়ে চূড়ান্ত আপডেট সামনে আসতে পারে। এরপরই ১১ জানুয়ারি নিউ জ়িল্যান্ড-এর বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের দল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করছেন শ্রেয়স আইয়ার। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তাঁর আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



