বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করেছে দেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে মুজিবকন্যা আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর অন্য কোনও দেশে যেতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে পারেন হাসিনা।
ইউনুস সরকারের ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, ৯৭ জন প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামি লীগের সাংসদের কূটনৈতিক পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড এবং ‘গুম’ কাণ্ডে শেখ হাসিনা এবং এই ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।


এর পাশাপাশি, মুজিবকন্যাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর পর ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি ‘কূটনৈতিক আশ্রয়’ পাননি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট বিবৃতি দেয়নি। পাসপোর্ট বাতিলের ফলে ভারতে তাঁর অবস্থান আইনত বৈধ কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভারত সরকার পাশে থাকলে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনও সমস্যার সম্ভাবনা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসপোর্ট বাতিলের এই সিদ্ধান্ত ভারতের উপর চাপ তৈরি করার একটি কৌশল। হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লিতে আবেদন জানানো হয়েছে।


মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কিনা বা অন্য কোনও দেশে যেতে পারবেন কিনা, তা অনেকাংশে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। তবে ইউনুস সরকারের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের উপর নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।







