পরপর দু’দিনে দুই তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিল বিজেপি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পিছনে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ‘৭৫-২৫ ভাগ বাটোয়ারার’ দ্বন্দ্বই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করছে।
শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং ইটের টুকরো ছোড়া হয়। পাশাপাশি ধস্তাধস্তি ও শারীরিক নিগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চণ্ডীতলায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গিয়ে আহত হন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর যখন তুঙ্গে, তখন হাবরার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, “বিজেপি কখনও হামলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এই দুই ঘটনায় আমাদের কোনও কর্মী জড়িত নন।”
শমীকের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাঁর কথায়, “যাঁরা এতদিন সুবিধা পেয়েছেন এবং যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সংঘাতই এখন সামনে আসছে। ৭৫-২৫ ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তৃণমূলের ভিতরেই লড়াই শুরু হয়েছে।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, অভিষেক ও কল্যাণ— দুই ক্ষেত্রেই পুলিশ যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই অভিযোগের জবাবে শমীক বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে বহু পুলিশকর্মীকে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন সেই পুলিশকেই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে।
তবে বিজেপির এই বক্তব্য মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও জনপ্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না।
জয়প্রকাশের দাবি, হামলার ঘটনায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের একাংশের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে বিজেপি দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেই তাঁর অভিযোগ।
অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিজেপি তৃণমূলের অন্দরকলহকে দায়ী করছে, অন্যদিকে তৃণমূল সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে রাজনৈতিক তরজা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই দুই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।



