বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে ফের ধাক্কা! ১ জুন থেকে কলকাতায় সিলিন্ডার ৩২৫৫ টাকা, বাড়ল আরও ₹৫৩.৫০

বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ফের বাড়ল। ১ জুন থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াল ৩২৫৫.৫০ টাকা। হোটেল, রেস্তরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফের বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। মে মাসে প্রায় হাজার টাকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর নতুন মাসের শুরুতেই আরও এক দফা মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এল। ১ জুন থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা, যা ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তেল সংস্থাগুলির নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার থেকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপিছু আরও ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও সাধারণ গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেই সিলিন্ডার এখনও ৯৩৯ টাকাতেই পাওয়া যাবে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাণিজ্যিক এলপিজির মূল্য। জানুয়ারিতে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা, ফেব্রুয়ারিতে ৩১ টাকা, মার্চে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং এপ্রিলে ২১৮ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছিল।

এরপর মে মাসের শুরুতে এক ধাক্কায় সিলিন্ডারপিছু ৯৯৪ টাকা বৃদ্ধি পায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। তার এক মাসের মধ্যেই ফের ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে।

জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে এলপিজি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং ব্যবসায়ী এবং ছোট খাবারের দোকান মালিকরা। কারণ তাঁদের ব্যবসা মূলত বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লে খাবারের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকান, চায়ের স্টল কিংবা স্থানীয় রেস্তরাঁগুলিতে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রেরও। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে এলপিজি সরবরাহ শৃঙ্খল চাপে পড়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশবাসীকে রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সেই আমদানিকৃত এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও দেশের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে বাজার মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর