পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে শুল্ক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের উপর আর আবগারি শুল্ক নেওয়া হবে না।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে আসছে কেন্দ্র।
ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজ পণ্য থেকে উৎপাদিত এক ধরনের জৈব জ্বালানি। পেট্রলের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা হয়। সরকারের দাবি, এর ফলে বিদেশি তেলের উপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।
অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চার ধরনের উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিকে করমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ই২২ (২২ শতাংশ ইথানল), ই২৫ (২৫ শতাংশ ইথানল), ই২৭ (২৭ শতাংশ ইথানল) এবং ই৩০ (৩০ শতাংশ ইথানল) গ্রেডের জ্বালানি।
সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই ধরনের জ্বালানির বাজারমূল্য কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সাধারণ পেট্রলের ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক ছাড় ঘোষণা করা হয়নি।
জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হল ইথানলভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করা। ইতিমধ্যেই দেশে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিভিন্ন মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট তেল চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সরকার। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি, কৃষিজ উৎপাদনের নতুন বাজার তৈরি এবং আমদানি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্র যে ইথানল কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছে, সাম্প্রতিক এই ঘোষণা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



