এলপিজির বিকল্পে বড় সিদ্ধান্ত, পেট্রল পাম্প ও রেশনে মিলবে কেরোসিন—কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ, ৬০ দিনের জন্য পেট্রল পাম্প ও রেশন ব্যবস্থায় কেরোসিন বিক্রির অনুমতি দিল কেন্দ্র

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ৬০ দিনের জন্য দেশজুড়ে পেট্রল পাম্প এবং রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেরোসিন সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—যা সাধারণ মানুষের জন্য এলপিজির বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি এনে দিতে পারে। এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগাম প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে।

রবিবার রাতে জারি হওয়া গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন তেল কোম্পানির পেট্রল পাম্পে সর্বাধিক ৫০০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখা যাবে। পাশাপাশি গণবণ্টন ব্যবস্থার আওতায় রেশন দোকানগুলির মাধ্যমেও কেরোসিন বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আপাতত এই ব্যবস্থা ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে উন্নতমানের কেরোসিন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন প্রতিটি জেলায় অন্তত দু’টি করে সার্ভিস স্টেশন চিহ্নিত করবে, যেখানে কেরোসিন মজুত ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। ফলে স্থানীয় স্তরে জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যদিও বিরোধীদের তরফে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার সেই দাবি অস্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শাসক শিবিরের শীর্ষ নেতারা সংসদে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি নিয়ে কোনও সঙ্কটজনক পরিস্থিতি নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কেরোসিন সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির উপর জোর দেন। ইনফর্মাল গ্রুপ অফ মিনিস্টারসদের বৈঠকে তিনি জ্বালানি সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের প্রাপ্যতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্মলা সীতারামন, কিরেণ রিজিজু, হরদীপ সিং পুরী, মনোহর লাল খট্টর এবং জেপি নাড্ডা-র মতো শীর্ষ নেতারা। বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবদের নিয়ে গঠিত এমপাওয়ার্ড গ্রুপ পরিস্থিতি মোকাবিলার রূপরেখা তুলে ধরে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

আরও খবর