রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সদ্য প্রাক্তন সুপার অধ্যাপক ডা. অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দপ্তর। বদলির নির্দেশ জারির একদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে কর্তব্যে অবহেলা, প্রশাসনিক ত্রুটি এবং গুরুতর গাফিলতি।
স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এমএসভিপি (মেডিক্যাল সুপার ও ভাইস প্রিন্সিপাল) পদে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অধ্যাপক ডা. অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক পদে বদলি করা হয়েছে। বদলির পরেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্দরে দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে রোগীদের বেড না পাওয়া, পরিষেবায় বিলম্ব বা প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব নিয়ে সরকার এখন কড়া অবস্থান নিতে চাইছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভর্তি, বেড ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে একাধিক নির্দেশও জারি হয়েছে।


স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঘিরে অতীতে ওঠা দালালচক্র, রোগী ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং বেড বণ্টনে অসন্তোষের অভিযোগ নিয়েও প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বৃহত্তর স্বাস্থ্য সংস্কারের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এখন নজর বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়েই আগামী দিনে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



