পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে করা দুটি পৃথক রাজনৈতিক বক্তব্যে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি অভিযোগ ২০২৫ সালের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ধর্মকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালীন মন্তব্য নিয়ে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই মন্তব্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও উদ্বিগ্ন হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগকারিণী আরও দাবি করেছেন, তিনি এর আগেও অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তখন অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তাঁর বক্তব্য। নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে তিনি আবার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কোন কোন ধারার উল্লেখ করা হয়েছে?
অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ধারা ৩৫১ — অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত অভিযোগ
- ধারা ৩৫২ — শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান বা উসকানির অভিযোগ
- ধারা ৩৫৩ — জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, ঘৃণা বা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ
- ধারা ৩৫৪ — ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ
- ধারা ৩৫৬ — ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ
- ধারা ২৯৯ — ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা বিদ্বেষমূলক কাজ সংক্রান্ত অভিযোগ
তবে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত নয়। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করবে কি না এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



