ভারতজুড়ে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যাবশ্যক কেমোথেরাপির ওষুধের ঘাটতি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্ল্যাটিনাম-ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসার ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে কেন্দ্রের সম্মতির খবর সামনে এসেছে। ফলে একদিকে সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি— দুইয়ের চাপে পড়তে পারেন হাজার হাজার ক্যানসার রোগী।
চিকিৎসক এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিসপ্ল্যাটিন (Cisplatin) এবং কার্বোপ্ল্যাটিন (Carboplatin)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেমোথেরাপি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই ওষুধগুলি ফুসফুস, ডিম্বাশয়, জরায়ু, মাথা-গলা এবং একাধিক কঠিন ক্যানসারের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শিল্পমহলের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটিনামের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বহুগুণ বেড়েছে। একাধিক সংস্থার দাবি, গত এক বছরে প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণের কারণে সেই অতিরিক্ত খরচ বাজারে প্রতিফলিত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যসীমা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিভিন্ন সূত্রের খবর, সিসপ্ল্যাটিন, কার্বোপ্ল্যাটিন এবং অক্সালিপ্ল্যাটিনের মতো ক্যানসার ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা এগিয়েছে এবং মূল্যসংশোধনের পথে হাঁটার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারকদের একাংশের দাবি, বর্তমান দামে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু সংস্থা উৎপাদন কমিয়েছে, আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধও রেখেছে। এর জেরেই হাসপাতাল এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে সরবরাহের চাপ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা চক্র ব্যাহত হতে পারে। কেমোথেরাপির নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধের অভাবে চিকিৎসা বিলম্বিত হলে রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল রোগীদের জন্য ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং একইসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে দাম বাড়ানো প্রয়োজন হলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ক্যানসার চিকিৎসার সামগ্রিক খরচের উপর।
ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত জীবনরক্ষাকারী ওষুধকে ঘিরে এই সংকট এখন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর চিকিৎসক, রোগী এবং স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের।



