ভোটের আগে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় যেন একসঙ্গে একাধিক ধাক্কা। অটোর গ্যাসের দামে হঠাৎ ৮ টাকা বৃদ্ধি, তার উপর বাস কমে যাওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে রাস্তায় নামলেই বিপাকে পড়তে পারেন সাধারণ যাত্রীরা। ইতিমধ্যেই অটো সঙ্কট চোখে পড়ছে, নতুন দাম বৃদ্ধির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই কলকাতায় অটোয় ব্যবহৃত এলপিজির দাম বেড়ে দাঁড়াল লিটার প্রতি ৭০ টাকা ৬৮ পয়সা। এক ধাক্কায় ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এই জ্বালানির দাম। এর আগে মার্চের শুরুতেই লিটারে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে ৬২.৬৮ টাকায় পৌঁছেছিল দাম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরপর মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন অটোচালক থেকে যাত্রী—উভয়ই।


এদিকে, এলপিজির সঙ্কটের কারণে এমনিতেই শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ অটো রাস্তায় নামছে না। যেগুলি চলছে, সেগুলিও অনিয়মিত। অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের কাজে ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক বাস, গাড়ি রিকুইজিশন করা হচ্ছে। পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি—সব ধরনের গাড়িই তুলে নেওয়া হতে পারে।
বাসমালিকদের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১৬০০ বেসরকারি বাস নির্বাচন কাজে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে কলকাতা, বারাসত, কসবা, আলিপুরের আরটিও এলাকা থেকেও আরও গাড়ি তুলে নেওয়া হবে। ফলে শহরের রাস্তায় বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।


শুধু বাসই নয়, স্কুলবাস, অ্যাপ ক্যাব, পুলকার—সব ধরনের যানবাহনই নির্বাচন কাজে লাগানো হবে। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অটো কিছুটা ভরসা জোগায়, কিন্তু এবার এলপিজি সঙ্কটের কারণে সেই বিকল্পও সীমিত।
পরিবহণ সংগঠনের একাংশ জানাচ্ছে, শহরে যেখানে সাধারণত প্রায় আড়াই হাজার বেসরকারি বাস চলে, তার মধ্যে প্রায় দুই হাজার বাসই রাস্তায় নামবে না। ফলে যাত্রীদের জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও নির্বাচনজনিত যানবাহন সঙ্কট—এই দুইয়ের চাপে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।







