১ জুন শুধু নতুন মাসের সূচনা নয়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক মাইলফলক। অন্নপূর্ণা যোজনা এবং মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা— নির্বাচনের আগে দেওয়া দুই বড় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে সোমবার থেকেই। একই দিনে রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণও হতে চলেছে, ফলে দিনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার সোমবার থেকে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কার্যকরী বাস্তবায়ন শুরু করতে চলেছে। নবান্ন ও পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, মহিলাদের ফ্রি বাস পরিষেবা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একই সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় চালু হবে।
রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে সোমবার থেকেই মহিলা যাত্রীরা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। পরিবহণ দফতর ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালে বিশেষ নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের।
সূত্রের খবর, দূরপাল্লার সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের ‘জিরো ব্যালান্স টিকিট’ দেওয়া হবে। রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃত ১২টি পরিচয়পত্রের মধ্যে যে কোনও একটি দেখালেই মিলবে এই সুবিধা। শহরাঞ্চলের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও পরিচয় যাচাই এবং টিকিট ইস্যুর জন্য চালক ও কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, মহিলা যাত্রীদের যাতায়াত বাবদ ভাড়ার অর্থ সরকার সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে পরিবহণ সংস্থাগুলিকে প্রদান করবে। পাশাপাশি পরিষেবাটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য কন্ডাক্টরদেরও নির্দিষ্ট উৎসাহভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বহু আলোচিত অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সোমবার থেকে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হচ্ছে। সরকারি কর্মীরা উপভোক্তাদের তথ্য সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৩ জুন থেকেই যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার আবেদনপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। অনেকেই ফর্ম পূরণের জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে সরকার নিজেই সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা নিজেরা আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মী ও দলের স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত প্রাপকেরা যাতে সুবিধা পান এবং কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি যাতে প্রকল্পের সুযোগ নিতে না পারেন।
একই দিনে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণও হতে চলেছে। ফলে প্রশাসনিক দিক থেকে ১ জুন নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে নতুন মন্ত্রীদের শপথ, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন— দুইয়ের সমন্বয়ে সরকারের কাজের গতি ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে শাসক শিবির।
সব মিলিয়ে, ১ জুন রাজ্যের প্রশাসনিক ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে চলেছে। মহিলাদের ফ্রি বাস পরিষেবা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, তার উপর আগামী দিনের জনমত ও সরকারের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে।



