দখলদারি, বেআইনি ব্যবসা কিংবা দলের পতাকা ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না— এমনই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হাবড়ায় এক দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে বিধায়ক বা সাংসদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না দল।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এক দলীয় নেত্রীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল বার্তা হল পশ্চিমবঙ্গকে হিংসা ও দখলদারির রাজনীতি থেকে মুক্ত করা। সেই নীতিতেই এগোবে বিজেপি।
রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অতীতে পুলিশের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, আগে কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতেন, এমনকি মহিলা পুলিশদেরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করা হত।
শমীকের বক্তব্য, বিভিন্ন সময় পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তাঁদের দাবি ছিল, নানা সমস্যার বিষয়গুলি যেন প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়। নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে সেই ধরনের সংস্কৃতি আর চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূল যে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়েও কটাক্ষ করেন শমীক। তাঁর দাবি, এই ঘটনাগুলির সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই এবং এগুলি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। হাবড়া, অশোকনগর, পুরুলিয়া থেকে ডুয়ার্স— রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শমীকের অভিযোগ, এদের অনেকেই অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিজেপির নাম ব্যবহার করে বালিখাদান, পাথরখাদান, সীমান্ত এলাকা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ধরনের কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়গুলি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর সাফ বক্তব্য, দলের কোনও জনপ্রতিনিধি যদি বেআইনি কর্মকাণ্ডে মদত দেন, তবে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



