বাংলা সিনেমার বাজার ও প্রদর্শন পরিকাঠামো নিয়ে সরব হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। রাজ্যে আরও বেশি প্রেক্ষাগৃহ তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে প্রকাশ্যে আবেদন জানালেন তিনি। শুক্রবার উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীকের বক্তব্য, বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। তাঁকে উদ্দেশ করেই শমীক সরকারি উদ্যোগে নতুন সিনেমা হল তৈরির আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে সাধারণ দর্শকের কাছে সিনেমা দেখার যে পরিকাঠামো একসময় সহজলভ্য ছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। ফলে বাংলা ছবির দর্শক তৈরি ও ধরে রাখতে নতুন প্রেক্ষাগৃহের প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু নতুন হল তৈরি নয়, বাংলা ছবির দর্শক বাড়াতে কর ছাড়ের বিষয়টিও বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন শমীক। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বাংলা ছবিকে করমুক্ত করা গেলে দর্শকদের হলমুখী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নাটক ও সিনেমার প্রতি শমীকের আগ্রহের কথা রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও সময় বের করে নাটক দেখতে যান তিনি। ফলে চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের শিল্পীদের নানা সমস্যার বিষয়েও তাঁর ধারণা রয়েছে। সেই সূত্রেই এ দিন চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য আরও কিছু সরকারি সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শমীকের ঘোষণা, সরকারি আবাসন এবং সরকারি সার্কিট হাউসগুলিতে পরিচালকরা যাতে কোনও ধরনের শুল্ক ছাড়াই শুটিং করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, চলচ্চিত্র শিল্পের পাশে থাকবে সরকার এবং মূল লক্ষ্য হবে এই শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করতেও ভোলেননি শমীক। তাঁর কথায়, সময় বদলেছে, বদলেছে সিনেমা দেখার ধরনও। একসময় কলেজ পালিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা হয়তো আর নেই। কিন্তু উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব এখনও অটুট।
উত্তম কুমারকে স্মরণ করে শমীক বলেন, তিনি হারিয়ে যাননি, সময়ের সঙ্গে মিশে গিয়েও তাঁর অস্তিত্ব ফিকে হয়নি। বরং বাঙালির সংস্কৃতি ও স্মৃতিতে তিনি এখনও গভীর ভাবেই উপস্থিত।
শমীকের এই বক্তব্যে একদিকে বাংলা ছবির জন্য নতুন প্রেক্ষাগৃহের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে শুটিং পরিকাঠামো ও কর-সুবিধার মতো একাধিক বিষয় সামনে এল। বাস্তবে এই প্রস্তাবগুলি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে টলিউড মহলের।



