নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্ষণিকের বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার একাধিক এলাকা, ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টি। আর তাতেই এক লহমায় বদলে গেল কলকাতার আবহাওয়া। সোমবার সকালে রোদের দেখা মিললেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোল বদলে যায় আকাশের। সকালের আকাশে সূর্যের দাপট থাকলেও আটটা বাজতেই ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে সূর্যের তাপ। সেইখানে জায়গা করে নেয় কালো মেঘ। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসে বৃষ্টি (Rain)।
আরও পড়ুনঃ সত্যিই কী রাজ্যসভার সাংসদ হচ্ছেন সৌরভ পত্নী ডোনা? জল্পনা বাড়ালেন দিলীপ ঘোষ
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি জারি থাকবে। ঘূর্ণিঝড় অশনি আসার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও। মনে করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষ না হলেও সাইক্লোন অশনির পরোক্ষ প্রভাবেই বৃষ্টি শহর কলকাতায়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে বলে খবর।

সায়েন্স সিটি গামী রাস্তায় জল জমেছে। যার জেরে যান চলাচল খানিকটা শ্লথ হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতার বালিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বালিগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ৫৭ মিমি। মোমিনপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ৫৫ মিমি। সার্দার্ন অ্যাভিনিউতে বৃষ্টি হয়েছে ৫৩ মিমি।
ক্ষণিকের তুমুল বৃষ্টির দাপটে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কলকাতার (Kolkata) একাধিক এলাকা। বেহালা, বালিগঞ্জ, কসবা, তিলজলা, যাদবপুর সহ একাধিক এলাকায় রাস্তার ওপর জল জমেছে। কোথাও জল গোড়ালি পর্যন্ত আবার কোথাও খানিক ওপরে। সপ্তাহের প্রথমদিনের সকালে এমন বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা অফিস যাত্রীদের। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল বহু যাত্রীকে। ছাতা মাথায় জল পেরিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।
হাওয়া অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, যত সময় এগোচ্ছে, ততই ধীরে ধীরে গতি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অশনি। এদিকে, যত সময় যাচ্ছে চোখ রাঙিয়ে এগিয়ে আসছে ‘অশনি’। রবিবারই এই নিম্নচাপ বঙ্গোপোসাগরের বুকে গভীর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। শেষ আপডেট অনুযায়ী ঘণ্টায় ২৫ কিমি বেগে এগোচ্ছে এই সাইক্লোন। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, এই ঝড় ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বইতে পারে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপত্তনমের থেকে ৭৪০ কিমি দূরে অবস্থিত। পুরী থেকে ৬৪০ কিমি দূরে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড় প্রবল শক্তি নিয়ে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় হবে এই অশনির।
তবে স্থলভাগে আসার আগেই এই ঘূর্ণিঝড় সমুদ্রের মধ্যেই শক্তি হারাবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। সেক্ষেত্রে ল্যান্ডফল না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল-কে আবহবিদ সুজীব কর জানিয়েছেন, ‘সাইক্লোন যত এগোচ্ছে, ততই শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এটি যখন ওডিশা উপকূলে পৌঁছবে তখন নিম্নচাপ থাকবে শুধুমাত্র। বাংলায় হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তবে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।’
ক্ষণিকের বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার একাধিক এলাকা, নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা

অশনির প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির পূ্র্বাভাস জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সমুদ্রে যেতে মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিঘা, বকখালির মতো সৈকত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং চলছে।








