ঐতিহাসিক প্রজন্মান্তর CPIM-এ, পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়ছেন সাতজন বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী

৭৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকতে পারবেন না। পলিটব্যুরো সদস্যদেরও এই নিয়মের আওতায় পড়তে হবে এবার থেকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিপিএমের পলিটব্যুরোতে প্রজন্মান্তরের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সবিধি কার্যকর হলে, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের পলিটব্যুরো বা কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার অধিকার থাকবে না। এপ্রিলে তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে অনুষ্ঠেয় সিপিএমের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসের আগেই এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে, সাতজন বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী একসঙ্গে পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়তে পারেন। তালিকায় রয়েছেন প্রকাশ কারাট, বৃন্দা কারাট, সুহাসিনী আলি, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তামিলনাড়ুর জি রামকৃষ্ণন, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের সূর্যকান্ত মিশ্র।

ঐতিহাসিক প্রজন্মান্তর CPIM-এ, পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়ছেন সাতজন বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী

ঐতিহাসিক প্রজন্মান্তর CPIM-এ, পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়ছেন সাতজন বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী
ঐতিহাসিক প্রজন্মান্তর CPIM-এ, পলিটব্যুরো থেকে বাদ পড়ছেন সাতজন বর্ষীয়ান নেতা-নেত্রী

সিপিএমের নিয়ম অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকতে পারবেন না। পলিটব্যুরো সদস্যদেরও এই নিয়মের আওতায় পড়তে হবে। তবে, বিশেষ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী অনুমতি দেওয়া হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কুন্নুর পার্টি কংগ্রেসের সময় বিজয়নের বয়স ৭৫ পার করলেও, তাকে পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছিল। এবারও এমন ব্যতিক্রম হতে পারে কি না, তা দেখার বিষয়।

অনেক প্রবীণ সিপিএম নেতা বলছেন, একসঙ্গে এতজন নেতা-নেত্রীকে বাদ দেওয়ার ঘটনা দলের ইতিহাসে বিরল। যদিও, গত পার্টি কংগ্রেসে বিমান বসু এবং কেরলের এস রামচন্দ্র পিল্লাইদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দলের প্রবীণ নেতা মহম্মদ সেলিম জানান, “এই প্রজন্মান্তরের সিদ্ধান্ত এক দশক আগে গৃহীত হয়েছিল, এবং এটাই এবার কার্যকর হবে।”

সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির মৃত্যুর পর দলের অভ্যন্তরে সংকট দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা থমকে গেছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পলিটব্যুরোর বৈঠক এবং রবিবার ও সোমবারের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক থেকে অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে কাউকে মনোনীত করা হতে পারে। যদি নতুন কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনিই পরবর্তী পার্টি কংগ্রেসে দলের স্থায়ী সাধারণ সম্পাদক হবেন। অন্যথায়, যদি প্রকাশ কারাট বা বৃন্দা কারাটের মতো কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে পরবর্তী পার্টি কংগ্রেসে নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে।

সিপিএমের অনেকের মতে, পুরনোদের মধ্যেই কাউকে অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলের নথি তৈরিতে এবং তা পেশ করার কাজে। তবে অধিকাংশ প্রবীণ নেতাকে হয়তো দলের ‘রিজ়ার্ভ বেঞ্চে’ যেতে হবে। দলের অন্দরমহলে এখন আলোচনা চলছে, প্রবীণ নেতারা বাদ পড়লে, কারা তাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। যেমন পশ্চিমবঙ্গ থেকে সূর্যকান্ত মিশ্র বাদ পড়লে, পলিটব্যুরোতে তার জায়গা কে নেবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শ্রীদীপ ভট্টাচার্য এবং সুজন চক্রবর্তীর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণসংগঠনের দিক থেকেও বিজু কৃষ্ণন ও অরুণ কুমারদের পলিটব্যুরোয় অন্তর্ভুক্তির আলোচনা চলছে। মহিলা সদস্যদের মধ্যে বৃন্দা কারাট এবং সুহাসিনী আলি বাদ পড়লে, তাঁদের স্থানে সিটুর সর্বভারতীয় সভানেত্রী কে হেমলতা এবং মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম ধাওয়ালের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। মাদুরাই পার্টি কংগ্রেস থেকে সিপিএমের এক ঝাঁক বর্ষীয়ান নেতাকে প্রায় ‘মার্গদর্শক’ ভূমিকায় চলে যেতে হবে বলে দলের অনেক প্রবীণ নেতা মনে করছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন