নজরবন্দি ব্যুরোঃ এক বছরের মধ্যে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। জায়গা পাননি কোনও জেলা কমিটিতে। বিজেপিতে তবে কী ব্রাত্য সায়ন্তন বসুর? এই প্রশ্ন দলের অন্দরেই উঠতে শুরু করেছিল। শুক্রবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে পাঠানো সায়ন্তন বসুর চিঠি রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। যেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, দল চালাচ্ছেন দলবদলুরা।


গত বছরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। সেই জায়গায় আনা হয় বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে। তারপর থেকেই একাধিক কমিটি থেকে বাদ পড়েন বহু পুরাতন নেতারা। জেলা সংগঠন থেকে রাজ্য সংগঠনেও প্রাধান্য পান তৃণমূল থেকে আসা নেতারা। এজন্য সাংগঠনিক সভাপতি অমিতাভ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেছে বিজেপির একাংশের।

সূত্রের খবর, জেপি নাড্ডাকে দেওয়া চিঠিতে সায়ন্তন বসু অভিযোগ তুলেছেন, তৃণমূল থেকে আসা নেতারা রাজ্য বিজেপি চালাচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযোগ, সিবিআই এবং ইডি-র ভয় দেখিয়ে আরও তৃণমূল নেতাদের ভাঙিয়ে আনার চেষ্টাও চলছে। এমনকি সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলায় দল মূলনীতি নিয়ে লড়াই করছে না। মানুষের কাছে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সিবিআই, ইডির সমনের ভয়ে আরও অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবেন। রাজ্য বিজেপির উপরে মানুষের ভরসা কমছে।
দল চালাচ্ছেন দলবদলুরা, বিরাট পদক্ষেপ সায়ন্তনের

যদিও রাজ্য বিজেপিতে এই অভিযোগ একেবারেই অমূলক নয়। কারণ, বিজেপিতে কান পাতলেই শোনা যায় আদি বনাম নব্যের লড়াই। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের পর অনেকেই দলবদল করেছেন। আবার অনেকে রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এতে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয় আসতে চলেছে বিজেপির জন্য। বরং বিরোধী শক্তি হিসাবে উঠে আসছে বামেরা। আগামী দিনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আগামী দিনে বাংলার বিজেপি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেন দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের নেতারা? সেটাই দেখার।









