নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যজুড়ে চলছে সিবিআই ও ইডির জোড়া অভিযান। নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতাদের। এমত অবস্থায় দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে সরব হলেন দেশের প্রাক্তন আমলা ও রাজ্যসভার সাংসদ জওহর সরকার। তিনি বলেন, এবার তৃণমূল ছাড়ার সময় এসে গেছে। তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, এরকম লোক আত্মকেন্দ্রিক।
আরও পড়ুনঃ SujanAbhishek-ED: ‘মুখ্যমন্ত্রী সব জানেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য সুজন চক্রবর্তীর


এদিন জওহর সরকারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সৌগত রায় বলেন, উনি তাঁদের সঙ্গে থাকুন। তৃণমূলে আছেন কেন? সাহস থাকলে পদত্যাগ করুন রাজ্যসভা থেকে। তাতে অবশ্য উনি লাকি। একটা সরকারি পেনশন পাচ্ছেন, রাজ্যসভারও পেনশন পাবেন। কিন্তু কমপক্ষে সুবিধাভোগটা বন্ধ করুন। নিজে বলছেন তো ছেড়ে দিন। উনি গেলে কিছু ক্ষতি হবে না। লাভই হবে। এরকম লোক আত্মকেন্দ্রিক। স্বার্থপর লোকের থাকা উচিত নয়।
জওহর সরকারের মতো লোক, এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। জওহর সরকার একদিনের জন্যে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার আগে তৃণমূলের মিছিলে হাঁটেননি। উনি যখন দিল্লিতে তথ্য ও সম্প্রচারের সচিব ছিলেন, একটাও উপকার করেননি। আপনারা চান না ওর কাছে। জওহর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারের মন্ত্রকের সচিব ছিলেন রবীন্দ্রনাথের দেড়শো বছর হয়েছিল। তখন যাদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, তখনকার নেতাদের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের যোগ ছিল?

এরপরেই তিনি বলেন, জওহর সরকার বলছেন মোদির চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চান। কে ও? ওর কথার কী গুরুত্ব রয়েছে? এরা নিজেদের স্বার্থ যতক্ষণ চলবে ততক্ষন অবধি তৃণমূলকে ব্যবহার করে সংসদে দুই লক্ষ টাকা বেতন পাবে। বিলেতে যাতায়ত করবে তখন ঠিক আছে। যেই একটু দলের খারাপ সময় তখন সমালোচনা করে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলবেন।


উল্লেখ্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বলেন, ঘটনাটা যখন দেখলাম তখন বিশ্বাস করতে পারিনি। কারও বাড়ি থেকে এত টাকা বেরোতে পারে ভাবতে পারিনি। পার্থবাবুকে তো শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দেখেছি। কথাও বলেছি অনেক বার। টিভিতে দেখে আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ও রকম ভদ্রলোকের ইমেজ! তিনি কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু দুর্নীতির টাকা দিয়ে তাঁকে অলঙ্কৃত করা। এটা দেখলে কী রকম গা শিরশির করে।
এরকম লোক আত্মকেন্দ্রিক, সরাসরি আক্রমণে সৌগত

তিনি আরও বলেন, আমার এক মাত্র টার্গেট হল এই স্বৈরাচারী শক্তি। এই আদর্শটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছি। যে আর্দশ মেনে চলবে, তার সঙ্গে থাকতে রাজি আছি। তাঁর সাফ বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের মোহর লাগিয়ে যত ইচ্ছা টাকা বানাবো, বান্ধবীর নামে ফ্ল্যাট বানাবো, গাড়ির পরে গাড়ি কিনব, এগুলো মানতে পারছি না৷







