উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি মহাকুম্ভের জলকে ‘স্নান এবং আচমন করার যোগ্য’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য, সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে, যেখানে গঙ্গার জলে ‘ফেসাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া’র উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। এই রিপোর্টের পরে, বিরোধীরা মহাকুম্ভের জলকে বিষাক্ত বলার অভিযোগ তোলেন, যা নিয়ে রাজ্য সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
যোগী আদিত্যনাথের প্রতিক্রিয়া
বিষাক্ত জল নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে, যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভের জল স্নান করার যোগ্য, এমনকি গঙ্গাজল পানও করার যোগ্য।” তিনি দাবি করেন যে, ৫৬.২৫ কোটি পুণ্যার্থী ইতিমধ্যেই মহাকুম্ভে স্নান করেছেন এবং তাদের মধ্যে বহু সেলিব্রেটিও পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যখন সনাতন ধর্ম, মা গঙ্গা বা মহাকুম্ভ নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়, তখন ৫৬ কোটি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।


সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিপোর্ট এবং বিতর্ক
সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রয়াগরাজের গঙ্গার জল স্নান করার উপযুক্ত নয়, কারণ সেখানে ফেসাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত। তবে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই রিপোর্টের সত্যতা খণ্ডন করেছেন এবং বলেন যে, গঙ্গার জল স্নান ও আচমন করার উপযুক্ত, কারণ বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড লেভেল প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রামের নীচে ছিল এবং ডিসলভড অক্সিজেন লেভেল ৫ মিলিগ্রাম থেকে বেড়ে ৯ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে।
পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের প্রতিবেদন এবং সরকারের অবস্থান
উত্তর প্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (UPPCB) জানায় যে, গঙ্গার জল পরীক্ষা করার পরে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ফলাফল জমা দেওয়া হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায়, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়।
যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেছেন যে বিরোধীরা এই রিপোর্টের মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব মহাকুম্ভকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।


গঙ্গার জল এবং মহাকুম্ভের গুরুত্ব
মহাকুম্ভ, যা ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, সারা বিশ্ব থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে এসে স্নান করেন। যোগী আদিত্যনাথের দাবি, গঙ্গার জল কখনোই বিষাক্ত ছিল না এবং তা পুণ্যার্থীদের জন্য স্নান এবং পান করার উপযোগী। তিনি এই জলকে ‘পবিত্র’ এবং ‘বিশুদ্ধ’ দাবি করেছেন।







