সেদিন পাকিস্থান সহ বিশ্ব ক্রিকেট বুঝেছিল, এক ‘বালক’ এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করতে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সেদিন পাকিস্থান সহ বিশ্ব ক্রিকেট বুঝেছিল, এক ‘বালক’ এসেছে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করতে। ১৯৮৯ – ১৯৯০ ভারতীয় ক্রিকেট টিমের ম্যানেজার চাদু বোরে দল নিয়ে পাকিস্তান যায় চারটি টেস্ট ম্যাচ ওই চারটে ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনুমান ভারত এবার আক্রাম,ইমরান,ওয়াকার ইউনিস এবং আব্দুল কাদির সম্মিলিত পৃথিবীর অন্যতম বোলিং অ্যাটাকের কাছে ৪-০ তে টেস্ট সিরিজ হারবে। ভারতীয় দলের সাথে যাচ্ছে ১৬ বছর বয়সের এক বিস্ময় বালক “শচীন” তার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে।

আরও পড়ুনঃ পুজোর আগেই চলবে ট্রেন, কবে থেকে শুরু হবে রেল পরিষেবা? আসুন দেখে নিই।

- Advertisement -

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভারত সেখানে তিন তিনটি টেস্ট ম্যাচ ড্র করে ফেলেছে। শেষ টেস্ট ম্যাচ শিয়ালকোট, সেখানে কোনো ৫ স্টার হোটেল না থাকায় ভারতীয় টিম একটি তিন তলা বিল্ডিং এ জায়গা পায়। প্রত্যেকের জন্য ছোট মাপের আলাদা আলাদা রুম বরাদ্দ সেখানে রাত্রি তখন দশটা, ম্যানেজার চাদু বোরে গ্রাউন্ড ফ্লোরে সচিনের ঘর থেকে  আওয়াজ শুনতে পেয়ে দরজায় কড়া নাড়তেই দেখেন শচীন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শ্যাডো প্রাকটিস করছে। জিজ্ঞেস করতে জবাব আসে “একা ঘরে ঘুমনোর অভ্যেস নেই তাই প্রাকটিস করছিলাম”।

ইমরান খান যেকোন উপায়ে শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ জয় করতে উদ্যত, তাই পিচে অতিরিক্ত ঘাস রেখে পরেরদিন সকালে টস এর জন্য অপেক্ষা করছে। ভাগ্য দেবতাও যেন ওদের সহায়। টসে জিতে ইমরান প্রত্যাশামত ভারতীয় টিমকে ব্যাটিং করতে আমন্ত্রণ জানায় ভারতীয় টিম ২২ গজে লড়াই চালিয়ে অলআউট হওয়ার আগে ৩২৪ রান করে ফেলে। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শচীন ৫১ বলে ৩৫ রান করে, (প্রসঙ্গত শচীন সেসময় ছয় নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নামতো)।

প্রথম ইনিংসে .৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের বোলিং অ্যাটাক যেন আরো দাঁত নখ বের করে ঝাঁপিয়ে পরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর শুরুতেই বেশ কিছু উইকেট তুলে নেয়, আরো কিছু উইকেট ঝটপট তুলে নিতে পারলেই সিরিজ জিতে নেওয়ার একটা সুযোগ তাদের সামনে ঝাঁকরা চুলের বাচ্চা ছেলেটার উইকেট ওদের খুব দরকার, ওয়াকার ইউনিসকে দিয়ে চূড়ান্ত আক্রমনের মেজাজে পাকিস্তান (প্রসঙ্গত ওই সিরিজে সচিনের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াকর ইউনিসেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাতখরি হয়)।ওয়াকারের এক আন ইভেন দ্রুত গতির বাউন্স আঘাত করে সচিনের নাকে! গল গল করে রক্ত ঝড়ে পরে মাঠে ছুটে আসে ডাক্তার। ফার্স্ট এইড এবং ব্যান্ডেজ করা হয় আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে।

ভারতীয় টিম দ্বিধাগ্রস্ত, এই অবস্থায় সচিনকে ক্রিজে পাঠানো ঠিক হবে কিনা। হাল ছেড়ে দিলে পাকিস্তান সিরিজ কব্জা করে নিতে পারে বুঝে নিয়ে সচিন প্রস্তুত ব্যাট হাতে, মাঠ শুদ্ধ লোককে অবাক করে দিয়ে ইউনিসের প্রথম বলেই দুর্দান্ত কভার ড্রাইভে চার মারেন সচিন। চারিদিকে হাত তালির রব, সেইদিন সচিন ১৩৪ বল খেলে মূল্যবান ৫৭ রান করে আটকে দেয় ।জেতা সিরিজ ড্র করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। .১৬ বছরের বালক প্রশংসা কুড়িয়ে নেয় বিপক্ষ দলেরঅ। ক্রিকেট দুনিয়া বুঝতে পরে এক লেজেন্ড .২২ গজের খেলায় আত্মপ্রকাশ করেছে। যার নাম, সচিন রমেশ তেন্ডুলকার।

- Advertisement -

সিরিজের প্রথম তিনটি টেস্ট ম্যাচে সচিনের  রান: প্রথম -.১৫, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়নি দ্বিতীয় – ৫৯ ( ১৭২) ,৮ (১৬) তৃতীয় – ৪১(৯০), দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়নি।

সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর