নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতিতে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি! কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নাম জড়িয়ে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের নাম। দুর্নীতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের যুবনেতা কুন্তল ঘোষ, মানিক ভট্টাচার্য সহ তাঁর ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল কেও। রীতিমত সরগরম রাজ্য! এহেন পরিস্থিতিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এসেছে নয়া মোড়! এবার ইডির নজরে যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ!
আরও পড়ুন: শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই শুরু তৃণমূলের লোকসভা ভোটের প্রচার, জারি নয়া নির্দেশিকা!


জানা যাচ্ছে, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও চেয়েছে ইডি। এছাড়াও এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের শুরু থেকে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব, তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ানও চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু হাজিরা দিলেই হবে, সায়নীকে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে সমস্ত তথ্য। কিন্তু তলবের পরেই আচমকা উধাও যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। এমনকি কি দলীয় অনেক নেতারও সায়নীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে বুধবার তৃণমূল নেত্রী সায়নীকে তলব করে ইডি। আগামী শুক্রবার বেলা ১১ টার সময় সায়নীকে সল্টলেকে ইডির সদর দফতরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই তলবের খবর জানাজানি হওয়ার পর আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছেন সায়নী। এমনকি তিনি তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়ের বাড়িতে তিনি নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁর বাবা। ইডি সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সায়নী কিংবা তাঁর কোনও আইনজীবীও ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ফলে ইডির আধিকারিকেরা ধরে নিয়েছেন যে সায়নী শুক্রবার হাজিরা দেবেন। সেই মতেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সব মিলিয়ে বর্তমানে জোর চর্চা চলছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়।



প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষের সম্পত্তির সূত্র ধরে তৃণমূল যুব নেত্রীর নাম এসেছে। সম্পত্তি কেনা বেচার সূত্রে আর্থিক লেনদেনের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এই মুহূর্তে ইডির হাতে কুন্তল-সায়নীর বেশ কিছু চ্যাটও রয়েছে বলে খবর। যেখানে তৃণমূল যুব নেত্রীর সঙ্গে কুন্তল ঘোষের কথোপকথনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বলে দাবি তাদের। কুন্তলের মোবাইল থেকে সেই তথ্য তাঁরা সামনে পেয়েছেন।
যদিওবা নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল অনেকের নাম বললেও কখনও তাঁর মুখে শোনা যায়নি সায়নী ঘোষের নাম। তবে এই মুহূর্তে তৃণমূল নেত্রীকে দেওয়া নোটিশটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। তাছাড়াও সায়নী ঘোষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারের তালিকায় রয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে ইডির এই তলব শাসক শিবিরের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে চলছে।
ইডির তলবের পরেই আচমকা গায়েব সায়নী, কোথায় নেত্রী








