কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ২৭, বিদেশ সফর মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরলেন জেলেনস্কি

রাশিয়ার ৪৯৬টি ড্রোন ও ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ। নিহত অন্তত ২৭, ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ভবন। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুত সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন জেলেনস্কি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইউক্রেনের (Ukraine) রাজধানী কিয়েভে (Kyiv) চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া (Russia)। শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯০-রও বেশি মানুষ। ইউক্রেন প্রশাসনের দাবি, শহরের প্রায় ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিদেশ সফর মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy)।

শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল কিয়েভ

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছোড়ে। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা কিয়েভ। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন ও বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। একাধিক আবাসন, হোটেল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলেনস্কির অভিযোগ, প্রতিশ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো মেলেনি

হামলার সময় বিদেশ সফরে ছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ইউক্রেনে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সরবরাহ করা হলে এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেন অতিরিক্ত সাহায্য চাইছে না, বরং আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি জানাচ্ছে।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের হামলার জবাব

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা ছিল ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব। মস্কোর দাবি, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং কিয়েভ-সহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। রাশিয়ার বক্তব্য, তাদের ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই অভিযান।

যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ালেও শান্তি আলোচনায় এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। তারই জবাবে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভে আরও বৃহৎ আকারে হামলা চালাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। ফলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন