ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চতুর্থ বছরেও শান্তির কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। তবে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ফের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। জ়েলেনস্কির দাবি, মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধের সমাধানের পথ খুঁজতে চায় কিয়েভ।
প্রস্তাবিত বৈঠকের জন্য সুইৎজ়ারল্যান্ড, তুরস্ক অথবা কোনও আরব দেশের নাম উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনায় বসা প্রয়োজন।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর একাধিকবার শান্তি আলোচনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেই উদ্যোগগুলি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘর্ষ অব্যাহত থেকেছে।
জ়েলেনস্কির নতুন প্রস্তাবের পর রাশিয়ার প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। ক্রেমলিন সূত্রে প্রথমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, বৈঠক হলে তা মস্কোতেই হতে পারে। তবে অন্য কোনও দেশে বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে স্পষ্ট সম্মতি মেলেনি।
পরবর্তীতে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্লাদিমির পুতিন সাম্প্রতিক একটি ড্রোন হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২২ মে রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহনস্ক অঞ্চলের একটি কলেজ ডর্মিটরিতে হামলার ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার পর ব্যক্তিগত বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


পুতিনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি বৈঠক নিয়ে মস্কোর মধ্যে এখনও সংশয় রয়েছে। ফলে জ়েলেনস্কির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ়েলেনস্কির উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সংঘাত কমাতে এবং শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করতে দুই পক্ষেরই আলোচনার টেবিলে আরও নমনীয় অবস্থান নেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে উভয় দেশই অর্থনৈতিক ও মানবিক চাপের মুখে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সরাসরি বৈঠকের উদ্যোগ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও সবচেয়ে বড় বাধা।
সব মিলিয়ে, জ়েলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করলেও পুতিনের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনও সহজ নয়। এখন নজর থাকবে মস্কো ও কিয়েভের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



