‘ভারত কারও নির্দেশে চলে না’, মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা পুতিনের

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন চাপের মধ্যেই ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করলেন ভ্লাদিমির পুতিন। মোদীকে চাপ দিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না বলেও মন্তব্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর মার্কিন চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের পক্ষে সরব হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিদেশি শক্তির নির্দেশ মেনে চলা তার নীতি নয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক।

সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (SPIEF) বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন ভারতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক এবং নয়াদিল্লি কখনও বাইরের চাপের কাছে মাথা নত করেনি।

গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়টি নিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে মার্কিন প্রশাসন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জেরে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, রুশ তেল কেনার মাধ্যমে মস্কোর অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।

এই আবহেই পুতিনের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁর বক্তব্য, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক কোনও সাময়িক রাজনৈতিক সমীকরণের উপর নির্ভর করে না; বরং বহু দশকের পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর চাপ সৃষ্টি করে ভারতকে রাশিয়া থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা কার্যত অর্থহীন। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে বাইরের কোনও চাপ সেই বন্ধনে প্রভাব ফেলতে পারবে না।

পুতিন একইসঙ্গে ইঙ্গিত দেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক উন্নত হলেও তাতে রাশিয়ার কোনও আপত্তি নেই। মস্কোর বিশ্বাস, নয়াদিল্লি বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব অটুট রাখবে।

জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একাধিকবার জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক চাপ নয়, জাতীয় স্বার্থই হবে চূড়ান্ত নির্ধারক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি উৎস থেকে সহজে সরে আসবে না। অন্যদিকে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে চাওয়া মার্কিন কৌশলের মধ্যেই পুতিনের এই মন্তব্য নয়াদিল্লির প্রতি মস্কোর প্রকাশ্য সমর্থনের বার্তা বহন করছে।

সব মিলিয়ে, পুতিনের বক্তব্য শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দৃঢ়তার ইঙ্গিতই নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারতের স্বাধীন অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার প্রতিও এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন