নজরবন্দি ব্যুরোঃ একদিকে সাধারন জনগণের ভীড়ে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচের মনোনয়ন পেশ করছেন তখনি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙনের মুখে পড়ছে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর মনোনয়ন জমার ঠিক আগে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভা এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে, গতকাল রাতে সাংবাদিক বৈঠকে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল পাড়িয়াল সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। পশ্চিম পাঁশকুড়া আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে ফিরোজা বিবিকে।
আরও পড়ুনঃ করোনার ভ্যাকসিনের উত্পাদন বাড়াতে ‘কোয়াড’ বৈঠকে আর্থিক চুক্তি হতে পারে ভারতের সাথে


ওই প্রার্থী নিয়েই আপত্তি জানিয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান একাধিক তৃণমূল নেতা। তারপরেই এই দলত্যাগ। টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে আগেই দল ছেড়েছেন রবীন্দ্রনাথ, জটু লাহিড়ী, সোনালী গুহর মত নেতারা। হাতছাড়া হয়েছে মালদা জেলা পরিষদও। তারই মধ্যে এই ভাঙন। তবে এখানেই শেষ নয় উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতেও ফের ভাঙনের মুখে তৃণমূল। বিজেপি সূত্রে খবর, কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, বিউটি অধিকারী সহ তৃণমূল পরিচালিত পানিহাটি পুরসভার বেশ কয়েকজন বিদায়ী কাউন্সিলর আজ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
গতকালই তাঁরা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। কৌশিক চট্টোপাধ্যায়দের অভিযোগ, পানিহাটি বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অধিকার করে রয়েছেন। দলের কোনও কর্মসূচিতে তাঁদের ডাকা হত না বলেও অভিযোগ কৌশিকের। আজ বিকেলে হেস্টিংসে বিজেপির দফতরে তাঁদের গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা। যদিও বিদায়ী কাউন্সিলরদের অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবি, এতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না।
এদিকে কলকাতা নিকটবর্তী দক্ষিন দমদম এই তালিকায় শেষ সংযোজন। আজ দল ছাড়ার কথা জানিয়ে দক্ষিণ দমদম পুর-প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য প্রবীর ঘোষ বলেন ‘আমি কাজ করতে পারছিলাম না, এটা আমার ব্যর্থতা। আমার কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই’। আজ সকাল থেকেই তাঁর দলত্যাগ ঘিরে টানাপড়েন চলছিল। তাঁর মানভঞ্জনের চেষ্টা করেন ব্রাত্য বসু ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক । কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। আজ তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। হেস্টিংসের বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে যোগ দেবেন তিনি। প্রবীর ঘোষের পাশাপাশি আরও কয়েকজন কাউন্সিলারেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে তিন জায়গায় শাসকদলের ভাঙন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।









