নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘বহিরাগত’রা রাজ্যে এসে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে, ভোট প্রচারের সভা থেকে একাধিকবার এই অভিযোগ করতে শোনা গেছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি বড় সিদ্ধান্ত নিলেন দলনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই রাজ্যে ঢুকতে চাইলে RT-PCR টেস্ট করাতে হবে, তার পরই বাংলায় পা রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। এর আগে ওড়িশা সরকার সে রাজ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় ৩৪ টি মৃত্যু, প্রায় ৮ হাজার সংক্রমণ নিয়ে করোনায় বিধ্বস্ত বাংলা।


সে রাজ্যে বলা হয়েছে, রাজ্যে প্রবেশের জন্য করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট লাগবে। তার পর কলকাতা এয়ারপোর্টেও জারি করা হয় করোনা নির্দেশিকা। সেখানে বলা হয়েছে শহরে পা রাখতে হলে RT-PCR টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট লাগবে। আর সেই রিপোর্টে ৭২ ঘন্টার আগের হতে হবে। এবার সেই পথে হেটেই মমতার এই ঘোষণা। মমতার দাবি, প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাইরে থেকে এ রাজ্যে এসেছেন। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই করোনা সংক্রমিত।
আর সেই কারণেই বাড়ছে লাগাম ছাড়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তিনি বলেন, ”এরপর বড় কোনও অঘটন ঘটলে তার জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী থাকবে।” ‘বহিরাগত’দের নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ মমতা। দেশের অন্যান্য রাজ্য গুলির মতো রাজ্যের করোনা গ্রাফও ঊর্ধমুখি। প্রতিদিন নতুন রেকর্ড বানাচ্ছে সংক্রমণ। সাথেই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের বাকি চার দফার নির্বাচন একদিনে করার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু কমিশন কথায়, তা সম্ভব নয়। পূর্ব নির্ধারিত সূচিতেই নির্বাচন হবে।
অন্য দিকে কমিশনের ভার্চ্যুয়াল ভোট প্রচারের প্রস্তাব মানতে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। ফলে ভোট প্রচারে সভা, রোড-শো সবই চলবে আগের মতোই। তবে নির্বাচনী প্রচারে ক্ষেত্রে বেশ কিছু করোনা বিধি পালনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মাস্কের ব্যবহার করতে হবে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


এদিকে রাজ্যবাসীকে কোভিড-১৯ নিয়ে সতর্ক করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। তিনি টুইটে লিখেছেন, নবান্নের জারি করা নির্দেশিকার পালন করতে হবে সকলকে। করোনা বিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ধনকড়।







