বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে আরএসএসের প্রকাশ্য প্রশংসা—সংঘের শীর্ষ নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবালে তাঁকে ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন করে গর্বের কথা জানালেন। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে স্পষ্ট করে বলেন, সংঘের সঙ্গে যুক্ত হতে হলে ছোটবেলা থেকেই সদস্য হতে হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর কথায়, অনেকেই পরবর্তীকালে এসে এই ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে সংগঠনকে বুঝে নেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের ক্ষেত্রেও আলাদা করে সদস্যপদ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি।


অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হোসাবালে জানান, এতে সংঘ বা বিজেপি কোনওভাবেই অস্বস্তিতে নয়, বরং খুশি। তাঁর মতে, বিজেপির বিস্তার মানেই মানুষের মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। নতুন নেতারাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরএসএসের আদর্শ ও কার্যপদ্ধতি বুঝে নেবেন।
বাংলায় জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন, গর্বিত RSS শীর্ষ নেতা

আরএসএসে আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ প্রসঙ্গে তিনি একটি পারিবারিক তুলনাও টানেন। হোসাবালে বলেন, “আরএসএস আসলে একটি পরিবারের মতো। এখানে যোগ দিতে আলাদা করে কোনও ফর্ম পূরণ করতে হয় না। যেমন একটি পুত্রবধূ কোনও পরিবারে এলে আপনা থেকেই সেই পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেন।” এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দুকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য—“আমরা এই ছেলেকে নিয়ে গর্বিত।”
বিজেপির বাংলায় বিপুল জয়ের পেছনে আরএসএস ও তার স্বয়ংসেবকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে হোসাবালে বলেন, স্বয়ংসেবকরা নাগরিক হিসাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে সংঘের কর্মীরা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন—কমিউনিস্ট আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানাতেও সেই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল বলে দাবি তাঁর।


উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে জয়ের পাশাপাশি ভবানীপুরেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে রাজনৈতিক চমক দেখিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর নাম নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







