কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেন রাজু বিস্ত। ফের বিজেপিতে ফিরছেন বিমল গুরুং! দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত এর কথায় মিললো এমনই কিছু ইঙ্গিত। বাগডোগরায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ বললেন, “বিমল গুরুং এখনও আমার সংস্পর্শে আছেন।” সাংসদ রাজু বিস্ত জানিয়েছেন, কেন বিমল গুরুং তৃণমূলকে সমর্থন করছেন তিনি তা জানেন না। কারন হিসেবে রাজু বিস্ত যা জানিয়েছেন তা বিস্ফোরক।
আরও পড়ুনঃ NDA সরকারের পতন আসন্ন, তারুন্যের পাশে বিহার! ইঙ্গিত বুথ ফেরত সমীক্ষায়।


এদিন বাগডোগরা তে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিমল গুরুং ব্রসঙ্গে বিস্ত বলেন, তিনি বিমল তথা গোর্খাদের দাবি সম্বন্ধে অবগত আছেন। কাজেই ধিরে ধিরে তাঁদের সব দাবি পূরণ করবেন তিনি। তাঁর কথায়, সাংসদ পদে আসার পর থেকে তিনি গোর্খার কল্যাণেই কাজ করে চলেছেন। এদিকে বিমল গুরুং-এর গোর্খাল্যাণ্ড নিয়ে দাবি প্রসঙ্গে দার্জিলিং এর সাংসদ রাজু বিস্ত জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে আমি এখনই কিছু বলতে চাই না। কিন্তু বিজেপি গোর্খাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা এক-এক করে পূরণ করছে।”
রাজু বিস্তের এই কথাতে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেন সরাসরি তিনি গোর্খাল্যাণ্ড এর বিরুদ্ধে কিছু বললেন না তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি বিজেপি বিমল কে পাশে পাওয়ার জন্যে গোর্খাল্যান্ড কে সমর্থন করে? যাকে প্রকারান্তরে বাংলা ভাগ বলা যায়।
এদিকে, বিমল গুরুং যেদিন অজ্ঞাতবাস থেকে বেরিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখমুখি হন। সেই দিনেই পোস্টার পড়ে পাহাড়ে। তাতে লেখা ছিল গুরুং পাহাড়ে প্রবেশ করলে রক্তের ধারায় ভাসবে তিস্তা নদী! এদিকে ইউএপিএ ধারা সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং ৩ বছর পর প্রকাশ্যে এসে সল্টলেকের গোর্খা ভবনে যান। সেখানে বাধা পেয়ে সোজা চলে আসেন ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে। সেখানেই সন্ধেবেলা সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। ঘোষণা করেন এবার থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কে সমর্থন করবেন তিনি।


বিমলের এই সাংবাদিক সম্মেলনের কদিন পরেই বিজেপি-কে যোর ধাক্কা দেন তিনি। দার্জিলিং মিউনিশিপ্যাল কর্পোরেশনের ১৭ জন বিজেপি কাউন্সিলার যারা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছেড়ে ২০১৯ সালে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁরা বিমল গুরুং-এর হাত ধরে ফিরে আসেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায়।বিমল গুরুং সাংবাদিকদের জানান, বিজেপি এতদিন তাঁদের যে আশা দেখিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছিল তা পূরন করেনি। তাই বিজেপি-র হাত ছাড়লেন এই ১৭ কাউন্সিলার। এই ঘটনার পরেই রাজু বিস্তের দাবি পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরনের ইঙ্গিত দিল।







