নয়াদিল্লি: সারদা কাণ্ডে (Sarada Scam) রাজ্যের ডিজিপি Rajeev Kumar–এর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের (CBI) আবেদন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) খারিজ হয়ে গেল। শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, ৮ সপ্তাহ পরে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আর্জি শোনা হবে। এই রায়ে আপাতত বড় আইনি স্বস্তি পেলেন রাজীব কুমার।
রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক হিসেবে সারদা মামলায় তাঁর নাম ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই তীব্র বিতর্ক হয়েছে। তবে শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।


সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ, আট সপ্তাহের পর শুনানি
শুক্রবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, এখনই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সিবিআইয়ের আবেদন আপাতত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে আট সপ্তাহ পরে আদালত অবমাননার আবেদন শুনানি হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও নতুন আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত কিছুদিনের জন্য বড় রকমের আইনি চাপে থেকে মুক্ত থাকছেন Rajeev Kumar। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে কী ঘটে, তা এখন আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করছে।
রাজীব কুমারের আইনজীবীর তীব্র প্রতিক্রিয়া
আদালতে রাজীব কুমারের আইনজীবী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল যে রাজীব কুমার ও রাজ্য সরকার মিলে সব লুটেপুটে খেয়েছে। কিন্তু আদালতে আসল সত্য সামনে এসেছে।” তিনি আরও জানান, এই মামলা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।


তাঁর কথায়, “যারা এই মামলা করেছিল, তারা স্পষ্ট জানে যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আমরা আশা করি, তাঁরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন।” এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে আদালতে উল্লেখ করেন যে এই মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম টানা অপ্রাসঙ্গিক।
২০১৯-এর জামিনের রায় ও সিবিআইয়ের চ্যালেঞ্জ
২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্ট রাজীব কুমারকে এই মামলায় আগাম জামিন দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে।
গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে—“৬ বছর পর এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা কতটা যুক্তিযুক্ত?” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ থেকেই মূলত বোঝা যাচ্ছিল যে শীর্ষ আদালত তড়িঘড়ি কোনও পদক্ষেপ নিতে চাইছে না। শুক্রবারের রায় সেই দিকেই ইঙ্গিত দিল।
সারদা কাণ্ডের প্রেক্ষাপট
সারদা গ্রুপের আর্থিক কেলেঙ্কারি (Sarada Chit Fund Scam) পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতারণা হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। হাজার হাজার বিনিয়োগকারী বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্ত চলাকালীন Rajeev Kumar, যিনি তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন, তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিবিআই। এরপর থেকেই রাজীব কুমার বনাম সিবিআই মামলায় রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়।
রাজনৈতিক তাৎপর্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই নানান প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাংশ মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আক্রমণের জবাব হিসেবে কার্যকরী হতে পারে। অন্যদিকে, সিবিআইয়ের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “আট সপ্তাহ পরে শুনানি হলেও এই রায় রাজীব কুমারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক সময় এনে দিল। এটি ভবিষ্যতের জন্য নজিরও হতে পারে।”
Rajeev Kumar মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
এখন নজর আট সপ্তাহ পরের শুনানিতে। সেই সময় সিবিআই আদালত অবমাননার আর্জিতে নতুন যুক্তি হাজির করতে পারে। অন্যদিকে, রাজীব কুমারের পক্ষে আইনজীবী দলও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি করে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবে।
আইনি ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই এই মামলার পরবর্তী ধাপ রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।







