আরজি কর-কাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে শনিবার কলকাতা উত্তাল হয়ে ওঠে। আরজি কর-কাণ্ডে বিচার চেয়ে সকালে নবান্ন অভিযান ও বিকেলে কালীঘাট অভিযান—দুই পৃথক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সকালে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকে নবান্ন অভিযানে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রী। এই কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার মুখে জখম হন নির্যাতিতার মা। অভিযোগ, পুলিশের লাঠির আঘাতে তাঁর কপালে চোট লাগে।
অন্যদিকে, বিকেলে বামপন্থী চিকিৎসক সংগঠন অভয়া মঞ্চের ডাকে হাজরা মোড়ে শুরু হয় কালীঘাট অভিযান। পুলিশের অনুমতি না থাকায় শুরু থেকেই এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। ব্যারিকেড পেরোনোর আগেই পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। পরে হাজরা পার্কে ছোট মঞ্চ বেঁধে চলে প্রতিবাদ সভা। এতে অংশ নেন চিকিৎসক মানস গুমটা, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সিপিএমের শীর্ষ নেতা-নেত্রী।


নির্যাতিতার বাবা-মাকে ঘিরে রাজনীতি, শুভেন্দুকে পরোক্ষ আক্রমণ অভয়া মঞ্চের

অভয়া মঞ্চের কর্মসূচি থেকে বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন, শুধু রাজ্য সরকার নয়, নবান্ন অভিযানের উদ্যোক্তারাও এই ঘটনার জন্য দায়ী। জুনিয়র ডাক্তার পুলস্ত্য আচার্য বলেন, “আমরা এক বছর ধরে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে পথে থেকেছি। আজ যা ঘটেছে, তার দায় নবান্ন অভিযানের উদ্যোক্তাদেরই নিতে হবে।” যদিও শুভেন্দুর নাম সরাসরি না নিয়ে অভয়া মঞ্চ ইঙ্গিত দেয় তিনিই দায়ী।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নদিয়ার কালীগঞ্জে বোমা হামলায় নিহত কিশোরী তমন্না খাতুনের বাবা-মা এবং আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁওয়ের নির্যাতিতার মা। তমন্নার মা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকেই তাদের বাড়িতে বোমা ছোড়া হয়, যাতে তাঁর মেয়ে মারা যায়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। জয়গাঁওয়ের নির্যাতিতার মা-ও একই দাবি করেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির ফলে হাজরা মোড়ে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তায় বসে পড়েন বহু প্রতিবাদকারী। পরে পুলিশের অনুরোধে একদিকের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। বক্তৃতায় রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগা হলেও রাজনৈতিক পালাবদলের দাবি ওঠে দু’বার—প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক ভারতী মুখোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বক্তব্যে। শ্রীলেখা বলেন, “২০২৬-এ বদল দরকার।”


এক বছর পেরিয়েও আরজি কর-কাণ্ডে বিচার না মেলায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্যাতিতার মা-বাবাকে ঘিরে এই রাজনৈতিক তরজায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এই ঘটনা এখন কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।









