দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ফের উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত। জ্বালানি সংকটের সময়ে ভারতের সহায়তায় কৃতজ্ঞতা জানাল ঢাকা, আর তার জেরেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-এর নতুন সরকারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-এর সহযোগিতা সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজ়েল সরবরাহ এবং রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল শোধন করে বাংলাদেশে পাঠানোর সম্ভাবনা—এই দুই পদক্ষেপই ঢাকার কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হয়েছে।


বাংলাদেশের বিদেশনীতি মহলে মনে করা হচ্ছে, খলিলুর রহমান-এর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের পর থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের গতি বেড়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে অতীতের রাজনৈতিক অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি, তবু নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, “সম্পর্ক উন্নয়নে দুই পক্ষের সদিচ্ছা জরুরি। ইতিমধ্যেই একটা ভালো শুরু হয়েছে, যদিও সব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়।”
এদিকে, ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা আবার চালু করতে সম্মত হয়েছে ভারত—যা দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে রাজনৈতিক ইস্যু এখনও সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলছে। শেখ হাসিনা-কে ঘিরে বিতর্কে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট—তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আইনি পথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট—দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোতে চাইছে। যদিও পথ সহজ নয়, তবু সহযোগিতার এই নতুন অধ্যায় দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।









