পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। ইরানের উপর চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ব্যাপক সামরিক মোতায়েন শুরু করেছে আমেরিকা। একদিকে যুদ্ধজাহাজ, অন্যদিকে বিমানবাহী রণতরী—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
মার্কিন সেনার দাবি, হরমুজ প্রণালী-তে নজরদারি কড়া করতে ইতিমধ্যেই ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী USS Tripoli। এই রণতরীতে রয়েছে অত্যাধুনিক F-35B Lightning II যুদ্ধবিমান, এমভি-২২ অসপ্রে এবং একাধিক আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার।


United States Central Command (সেন্টকম)-এর তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক শিরা-উপশিরায় চাপ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেয় এমন কোনও জাহাজকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্তের জেরে কার্যত ইরানের বন্দর এবং উপকূলীয় অঞ্চল ঘিরে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পরই এই সামরিক সক্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান-ও পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “এই অঞ্চলে নিরাপত্তা যদি সবার জন্য না থাকে, তবে কারও জন্যই থাকবে না।” অর্থাৎ, ইরানের বন্দরকে লক্ষ্য করা হলে গোটা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর অঞ্চলের বন্দরগুলিই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এখানে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ফলে এই সামরিক তৎপরতা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।








