কলকাতা হাইকোর্টে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলার ত্রয়োদশ দফার শুনানি শেষ হয়েছে। মামলায় আজ উঠে এসেছে এমন কিছু যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ, যা ভবিষ্যতে এই রায়কে বড়সড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আদালত জানিয়েছে, সব দিক শুনে ২১ আগস্ট চূড়ান্ত দিকনির্দেশ দেওয়া হবে।
আজকের শুনানিতে প্রথম থেকেই উঠে আসে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থী চিহ্নিতকরণ প্রসঙ্গ। চাকরিহারাদের একাংশের আইনজীবী বলেন, প্যানেলে কিছু অযোগ্য প্রার্থী থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর মক্কেলরা যোগ্য। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন—“এত বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করব কীভাবে?” এই মন্তব্যে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
টেট দুর্নীতি বনাম নিয়োগ প্রক্রিয়া
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা দাবি করেন, যদিও টেট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ আছে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিজেই দুর্নীতিমুক্ত। তাঁদের বক্তব্য, একক বিচারপতির আগের রায় “টেট দুর্নীতি”-র ভিত্তিতে ছিল, কিন্তু মূল মামলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ছিল না। এই যুক্তি আদালত মানলে, সম্পূর্ণ নিয়োগ বাতিলের সম্ভাবনা কমতে পারে।
ওএমআর শিট জালিয়াতির প্রভাব
শুনানিতে ২০১২ সালের টেট পরীক্ষার ওএমআর শিট দুর্নীতি নিয়েও আলোচনা হয়। যদি এই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তবে তিনটি বড় নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব পড়তে পারে—১৬,৫০০ শিক্ষক নিয়োগ, ২০১৪ সালের ৪২,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, এবং ২০২২ সালের ১১,৭৬৫ শিক্ষক নিয়োগ। এর ফলে মামলাটি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
প্রশিক্ষিত প্রার্থী বনাম প্যারা-টিচার
এদিন জানানো হয়, প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ নম্বর পান, যেখানে প্যারা-টিচাররা অভিজ্ঞতার জন্য মাত্র ৫ নম্বর পান। যদিও উভয়কেই একই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বিচারপতি স্পষ্ট করেন, আদালতের মূল উদ্বেগ প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের নিয়ে, প্যারা-টিচারদের নিয়ে নয়।
জেলাভিত্তিক যুক্তি ও পূর্ববর্তী রায়ের উদাহরণ
জলপাইগুড়ি জেলার পক্ষ থেকে এক আইনজীবী জানান, তাঁদের জেলায় কোনো ইন্টারভিউ বা ডাক দেওয়া হয়নি, তাই এই দুর্নীতির সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। একই সঙ্গে মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি বাতিল হলে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ ও হাইকোর্টের উদাহরণ তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল একসঙ্গে এত চাকরি বাতিল না করে প্রমাণিত অসদাচারের ভিত্তিতে পৃথকীকরণ করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, মামলাটি এখন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ২১ আগস্টের শুনানিতে আদালতের রায় বা নির্দেশই নির্ধারণ করবে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।



