নজরবন্দি ব্যুরো: বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জেরে নাজেহাল আমজনতা। নিত্যদিনের জিনিস কিনতে গিয়ে পকেটে লাগছে ছ্যাকা। এবার ফের একবার হেঁশেলে আগুন লাগতে চলেছে। অকাল বৃষ্টির জেরে আলুর দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক জেলায় লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় জল জমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাথায় হাত চাষিদের। অন্যদিকে, আলুর দাম বাড়বে এই খবর পেয়ে কপালে ভাঁজ মধ্যবিত্তের।
আরও পড়ুন: রাস্তায় হাজার দিন, জোটেনি চাকরি, মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ SLST চাকরিপ্রার্থীর


খুচরো বাজারে জ্যোতি আলুর দাম রয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। চন্দ্রমুখী আলুর দাম প্রতি কেজি ২৫-২৭ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, আলুর দাম প্রতি কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। হেঁশেলের রান্নায় আলু জরুরী উপকরণ। প্রায় সব রান্নায় আলু প্রয়োজন হয়। সকালের জল খাবার থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার, বিকেলের স্ন্যাক্স হোক কিংবা রাতের খাবার- সবক্ষেত্রেই আলু দিয়ে রান্না হয়। আলু ভাজা, আলুর তরকারি কিংবা মাছ-মাংস, ডিমের ঝোলে আলু দেওয়া হয়। এটি একটি সহজলভ্য সব্জি। প্রায় সব বাড়িতে প্রতিদিনই রান্নায় প্রয়োজন হয়। সেই আলুর দাম বেড়ে গেলে কীভাবে চলবে তা ভেবেই চিন্তা বাড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের।

জানা গিয়েছে, অগ্রহায়ণ মাসের অকাল বৃষ্টির জেরে বিঘের পর বিঘের আলুর বীজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার ফলে আগামীদিনে উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। এদিকে হিমঘরে সঞ্চিত আলু এখনই বাইরে আনতে চাইছেন না অনেক ব্যবসায়ী। ফলে বাজারে পর্যাপ্ত আলুর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চাহিদা থাকলেও জোগান কম, তাই দাম বাড়ছে আলুর। এই পরিস্থতিতে আবহাওয়া দফতরকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন চাষিরা। তাঁদের অভিযোগ, ভুল পূর্বাভাসের খেসারত দিতে হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল অল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে আলুর বীজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।



এই বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার নবান্নে কৃষি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকের শেষে তিনি জানান, “সদ্য যাঁরা আলুর বীজ বপন করেছেন, সেগুলোকে রক্ষা করা মুশকিল। মানে শেষ ১২ দিনের মধ্যে যারা বীজ ছড়িয়েছেন, সেগুলো পচে যেতে পারে। কিন্তু বাকি ফসলের খুব একটা ক্ষতি হয়নি।” কৃষি দফতরের আশঙ্কা, বৃষ্টির অজুহাতে অনেকেই আলুর দাম বাড়িয়ে নেবে।
মধ্যবিত্তের হেঁশেলে ফের আগুন! বাড়তে চলেছে আলুর দাম, কারণ কী?

আলুর দাম যাতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে না চলে যায় সেদিকেও নজর রাখছে টাস্ক ফোর্স। চাষিদের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে আলুচাষ প্রায় দু সপ্তাহের মতো পিছিয়ে গিয়েছে। যে সমস্ত চাষিরা বীজ বপন করে ফেলেছেন এই অকাল বৃষ্টিতে তাতে পচন ধরবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।







