গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই চিকিৎসককে। এই মুহূর্তে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। উত্তাল গোটা দেশ। এরই মধ্যে নারী নির্যাতন নিয়ে সরব হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধর্ষণের ক্ষেত্রে কড়া আইন আনা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
আরজি কর ইস্যুতে এর আগেও একবার মুখ খুলেছেন এই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিন কয়েক আগে মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ে ‘লাখপতি দিদি সম্মেলন’ থেকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “নারীদের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। আমি সমস্ত রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করব, নারী নির্যাতনের ঘটনায় যেন কোনও রকম নরমপন্থী মনোভাব না দেখানো হয়। এই ঘটনা দোষীদের কোনও ভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।”
শনিবার প্রধানমন্ত্রী ফের একবার নারী নির্যাতনের বিষয়ে সরব হলেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বর্তমানে মহিলাদের উপর অত্যাচার, শিশুদের নিরাপত্তা সমাজের কাছে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। নারী সুরক্ষার জন্য দেশে অনেক কড়া আইন আনা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অপরাধ কমছে না। আগামী দিনে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে আরও কড়া আইন আনতে হবে। যাতে নির্যাতিতারা দ্রুত বিচার পান। এর ফলে নারীদের নিরাপত্তা বাড়বে। সঙ্গে তাঁরা নিশ্চয়তাও পাবেন।”
সুপ্রিম কোর্টের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি আরও বলেন, “২০১৯ সালে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট আইন পাশ হয়। জেলা নজরদারি কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটিগুলো আগামী দিনে যাতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
অন্যদিকে, ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে কেন কেন্দ্র সরকার আরও কড়া আইন আনছে না, তা নিয়ে বারংবার সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মমতা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। অভিষেক ধর্ষণের ক্ষেত্রে একেবারে সরাসরি এনকাউন্টারের নিদান দিয়েছেন। এখন, আগামী দিনে আরজি কর ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



