নজরবন্দি ব্যুরোঃ গুগল ক্রোমে পাসওয়ার্ড সেভ মানেই বিপদের হাতছানি, কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে মানুষ যত বাড়িতে আবদ্ধ হয়েছে ততই অপরাধের ইচ্ছেশক্তি বেড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত হারে দেশে সাইবার অপরাধের ঘটনা বেড়ে চলেছে। যে বিষয়টি সবথেকে বেশি নজরে এসেছে তা হল মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে পাসওয়ার্ড – সব কিছু হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দায় রয়েছে অপরাধীরা। আর এবার একটি নতুন সাইবার ক্রাইমের কাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে। দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে সেই সাইবার ক্রাইমের ঘটনা, যা নিয়ে ইউজারদের সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুনঃ Municipal Election: ২২ জানুয়ারি রাজ্যে পুরভোট? বিকেলেই বৈঠকে কমিশন


কারণ এই সাইবার অপরাধের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে গুগল ক্রোম (Google Chrome), যা সবথেকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন ইউজাররা। সবথেকে ভয়ঙ্কর দিকটি হল এই ম্যালওয়্যার আপনার গ্যাজেটকে সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আপনার ক্রেডিট কার্ডের যাবতীয় তথ্য থেকে শুরু করে লগইন ক্রেডেনশিয়ালও অটোমেটিক্যালি বসিয়ে দিচ্চে জালিয়াতরা।
হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! সরাসরি গুগল ক্রোম ব্রাউজার থেকেই আপনার সমস্ত পাসওয়ার্ড এই সাইবার কেলেঙ্কারির মধ্যে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকাররা (Hacker)। শুধু গুগল ক্রোম ব্যবহারকারীদের যেরই সতর্ক থাকতে হবে এমনটা নয়। সেই সঙ্গেই আবার মাইক্রোসফট এজ যাঁরা ব্যবহার করছেন, তাঁদেরও বিষয়টি নিয়ে সোজাগ থাকতে হবে।
ডিজিটাল জমানায় একটা মানুষের এখন একাধিক অ্যাকাউন্ট। স্বাভাবিক ভাবেই এত সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখাটা কোনও দিক থেকেই সহজ নয়। আর সেই কারণেই ইউজারদের গুগল ক্রোম বা মাইক্রোসফট এজের উপরে নির্ভরশীল থাকতে হয় ইউজারদের। কারণ সেই সব ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখা যায়। আর তাতেই বাড়তি সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে হ্যাকাররা। সাইবার অপরাধীরা এখান থেকে পাসওয়ার্ড চুরি করছে এবং তার দুর্ব্যবহারও করে চলেছে সমানতালে।



২০২১ সালে প্রায় ৪৪১,০০০ অ্যাকাউন্ট চুরির অভিযোগ উঠেছিল। Haveibeenpwned.com নামক একটি ওয়েবসাইট যা এই ধরনের সমস্ত সাইবার ক্রাইমের শিকার হওয়া অর্থাৎ চুরি হওয়া অ্যাকাউন্টের ট্র্যাক রাখে, তারাই সর্বপ্রথম খবরটি প্রকাশ করে। কোনও ডেটা চুরির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ট্র্যাক করতে ইউজারের ইমেল অ্যাড্রেস স্ক্যান করে থাকে এই ওয়েবসাইট। পাশাপাশি গ্রাহকদের সতর্কও করা হয়ে থাকে।
আপনার ডেটা চুরি হয়েছে কি না, বুঝবেন কী ভাবে? আপনার ডেটা চুরি হয়েছে কি না, তা জানতে সাহায্য নিতে পারেন Haveibeenpwned.com থেকে। ডেটা ব্রিচের ঘটনা এই সংস্থার তরফ থেকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা হয়। এখানে যদি দেখানো হয় যে, আপনার ইমেল অ্যাড্রেসটি রেডলাইন (RedLine) দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে, তাহলে যতগুলি অ্যাকাউন্ট আপনার মেশিন থেকে খোলা হয়েছে, এমনকি তা যদি কাজের VPN নেটওয়ার্ক হয়ে থাকে বা অফিসিয়াল কোনও অ্যাকাউন্ট হয়, যত দ্রুত সম্ভব সেগুলি বদলে নিন। তবে শুধু যে পাসওয়ার্ড বদলে দিলেই খেল খতম, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
রেডলাইন ম্যালওয়্যার কী, কী ভাবেই বা সেটি কাজ করে? গ্রাহকের তথ্য চুরির সবথেকে ন্যক্কারজনক ম্যালওয়্যারের নাম রেডলাইন (RedLine Malware)। ২০২০ সালের মার্চ মাসে ডার্কওয়েবে এটি সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল। করোনাভাইরাস লকডাউনের মাত্র কয়েক দিন আগে। এই ম্যালওয়্যার অত্যন্ত সন্তর্পণে ইউজারের অ্যাকাউন্টের খুঁটিনাটি তথ্য চুরি করে নিতে পারে। তা সে যে অ্যাকাউন্টই হোক না কেন, এমনকি অফিসের VPN নেটওয়ার্কেরও অ্যাকসেস নিতে পারে।
গুগল ক্রোমে পাসওয়ার্ড সেভ মানেই বিপদের হাতছানি, অপেক্ষায় হ্যাকাররা

পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন? এই ম্যালওয়্যার গ্রাহক মহলে ব্যাপক ভাবে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও এই রেডলাইন ম্যালওয়্যার নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণে চিন্তিত। আর সেই কারণেই তাঁরা গ্রাহকদের যে কোনও অ্যাকাউন্টের, যে কোনও পাসওয়ার্ড ব্রাউজারে সেভ করে রাখতে নিষেধ করছেন। খুব সম্প্রতি গুগল তার গ্রাহকদের প্লে স্টোরের একাধিক অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল, যেগুলি জোকার ম্যালওয়্যার দ্বারা ইনফেক্টেড ছিল। সংস্থার তরফ থেকে এমনই বেশ কয়েকটি অ্যাপও প্লে স্টোর থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে।







