রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ তিন বছর তিন মাসের কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত। মুক্তির পর তিনি ফিরেছেন তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ক্ষেত্র বেহালা পশ্চিমে, কিন্তু ফিরে এসেও যেন এক অদৃশ্য শূন্যতার সঙ্গে লড়াই করছেন। যে তৃণমূল কংগ্রেস দিনের পর দিন তাঁর ভরসাস্থল ছিল, সেই দল এখন দূরে। ফলে ২০২৬–এর নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পেতে হলে তাঁকে এবার একাই লড়তে হবে নিজের গ্রহণযোগ্যতার জন্য।
আর সেই লড়াইয়ের জন্যই পার্থের নতুন উদ্যোগ— জনবাক্স। বেহালা পশ্চিমের যে পার্টি অফিস একসময় তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল, গ্রেপ্তারের পর সেটি তালাবন্ধ হয়ে পড়ে। অস্থায়ী কাঠামোও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিত্যক্ত জায়গাতেই এখন নতুনভাবে সাজিয়ে পার্থ শুরু করতে চলেছেন জনসংযোগের নতুন অধ্যায়।


লক্ষ্য ২০২৬ নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট, নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে নয়া উদ্যোগ পার্থর
‘জনবাক্স’-এ ভোটাররা সরাসরি লিখে জানাতে পারবেন তাঁদের অভিযোগ, পরামর্শ এবং জনমত। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পার্থ বুঝতে চাইছেন তিনি এখনও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য কি না। তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার—২০২৬–এ ফের নিজের রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়া।

ইতিমধ্যে তাঁর অনুগামীরা এলাকায় লিফলেট বিলি শুরু করেছেন, যেখানে পার্থের স্পষ্ট বার্তা—
“আমি কার কাছ থেকে চাকরির বদলে টাকা নিয়েছি? প্রমাণ নিয়ে আসুন। কেউ আমার নামে টাকা নিলে আমিই ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় এখনো পার্থের ক্লিনচিট মেলেনি। অভিযোগ আদালতের বিচারাধীন। তৃণমূল তাই তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কমে এসেছে বলেই খবর। এই কারণে পার্থ এবার ভরসা রাখছেন মানুষকে, সরাসরি জনগণের আদালতকে।


এদিকে পার্থের ব্যক্তিজীবন নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলেছে। টাকা উদ্ধারের পর তাঁদের সম্পর্ক ঘিরে বহু মন্তব্য উঠে আসে। কিন্তু জামিনের পর দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্থ জানিয়েছেন, স্ত্রী মৃত্যুর পর অর্পিতা তাঁর শূন্যতা পূরণ করেছেন। তাঁর কথায়, “অর্পিতা ছিল, আছে, থাকবে।” তিনি গর্বের সঙ্গে দাবি করেছেন, অর্পিতা ওড়িয়া চলচ্চিত্রের প্রথম সারির অভিনেত্রী ছিলেন।
দীর্ঘ দিন পর এলাকাতে নিজের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দিতে পার্থর চেষ্টা এখন স্পষ্ট। যদিও শুক্রবার জনসংযোগ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, সোমবার তিনি নিজেই উপস্থিত হয়ে জনবাক্সে জমা পড়া অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া পড়তে পারেন। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ।
বেহালা পশ্চিমে তৃণমূলের সংগঠনগত শক্তি পার্থ ছাড়া তৈরি হয়েছে কি না—এটিও এখন আলোচনায়। তবে পার্থর সমর্থকদের দাবি, এখনও ‘দাদা’ জনপ্রিয়, এবং সঠিক সুযোগ পেলে তিনি ফের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন।
এখন বাকি কাজ—মানুষের মন জয়। দল যখন পাশে নেই, তখন পার্থর সব আশা এখন সেই জনতার আদালতই। ২০২৬–এ তিনি তৃণমূলের টিকিট পাবেন কি না, সেই উত্তর লুকিয়ে তাঁর নতুন জনমুখী উদ্যোগের ফলাফলেই।








