PSL ব্যান থেকে কোটি টাকার জরিমানা—ভারত ম্যাচ বয়কট করে নিজের পায়েই কুড়ুল মারল পাকিস্তান?

ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান কি আর্থিক ও প্রশাসনিক বিপদের পথে? আইসিসি নিষেধাজ্ঞা থেকে PSL ব্যান—একাধিক শাস্তির আশঙ্কা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান, কিন্তু ১৫ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না—নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু এই বয়কটের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান কার্যত নিজের পায়েই কুড়ুল মেরেছে। কারণ, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের উপর একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক শাস্তি নেমে আসতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে, নকআউট পর্বে যদি ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, তখন কী করবে পাকিস্তান? সেই পরিস্থিতির কোনও আগাম পরিকল্পনা এখনও পাকিস্তান সরকার বা Pakistan Cricket Board (পিসিবি) করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রুপ পর্বের বয়কটই পাকিস্তানকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কেন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করছে পাকিস্তান?

ভারত–পাকিস্তান রাজনৈতিক টানাপড়েন নতুন নয়, তার ছায়া ক্রিকেটেও বারবার পড়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের নেপথ্যে সরাসরি ভারত সরকার বা BCCI-এর সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব নেই বলেই জানা যাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই দাবি মানেনি ICC। বরং টুর্নামেন্ট কাঠামো থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ভারত ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটে পাকিস্তান।

কী কী শাস্তির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান?

▶ বিশ্বকাপ চুক্তি ভঙ্গ

আইসিসির প্রতিটি মেগা ইভেন্টের আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সঙ্গে একটি পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট হয়, যেখানে প্রতিটি নির্ধারিত ম্যাচ খেলার শর্ত থাকে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তান সেই চুক্তি ভাঙছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কোনও দেশ শর্তভঙ্গ করলে আইসিসির রাজস্ব থেকে পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে যে অর্থ দেওয়া হয়, তা বন্ধ করা হতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

▶ আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি

এই সিদ্ধান্তে আরেকটি গুরুতর দিক রয়েছে—পাকিস্তান ক্রিকেটে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। সাধারণত কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকে বোর্ডের। কিন্তু এখানে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ না খেলার কথা ঘোষণা করেছে, যা আইসিসির নিয়মের পরিপন্থী।

অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল আইসিসি। সেই নজিরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও সাসপেনশন আসতে পারে বলে আশঙ্কা।

বিপাকে PSL, প্রশ্নের মুখে ভবিষ্যৎ

পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম আয়ের উৎস Pakistan Super League (PSL)। কিন্তু যদি আইসিসি পাকিস্তানকে বয়কট বা সাসপেন্ড করে, তা হলে PSL-এ বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।

কারণ, আইসিসি নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বিদেশি প্লেয়াররা নিজেদের বোর্ডের কাছ থেকে NOC পাবেন না। ফলে PSL-এর মান ও আর্থিক কাঠামো বড় ধাক্কা খেতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়েও বাধা

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা জারি হলে পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলতেও পারবে না। যতদিন সাসপেনশন চলবে, ততদিন আন্তর্জাতিক সূচি থেকে কার্যত ছিটকে যাবে তারা। এর ফলেও বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রচারকারী সংস্থার জরিমানার আশঙ্কা

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থারও ক্ষতি। সেই কারণেই চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তানের উপর জরিমানা চাপাতে পারে সম্প্রচারকারী সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত–পাক ম্যাচের জন্য আলাদা করে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়, যা বাতিল হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা অস্বাভাবিক নয়।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত—বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান আদতে নিজের ক্রিকেট কাঠামো ও অর্থনীতির উপরই বড় ঝুঁকি ডেকে এনেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত