বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ভিডিওবার্তায় প্রকাশ্যে এলেন নিজেকে ‘ফয়সাল করিম’ বলে পরিচয় দেওয়া যুবক, যাঁকে তদন্তে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তিনি ভারতে নন—বর্তমানে দুবাই-এ রয়েছেন এবং হত্যার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিতে খুন হন হাদি। ঘটনার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে নেমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। ঢাকার পুলিশের বিবৃতিতে হালুয়াঘাটা সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়-এ ঢোকার কথাও বলা হয়। তবে পরে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ সেই দাবি খারিজ করে।
এই প্রেক্ষিতেই ভিডিওবার্তায় ফয়সালের বক্তব্য সামনে আসে। তিনি বলেন, “আমি ফয়সাল করিম মাসুদ। হাদি হত্যার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, তিনি ব্যবসায়ী এবং ঘটনার দিন হাদির অফিসে গিয়েছিলেন ঠিকই, তবে তা ছিল কাজ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য।
ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে সরকারি প্রকল্পেও কাজ করেছি। কাজের প্রয়োজনে হাদির অফিসে যাই। ওঁকে কিছু টাকা দিয়েছিলাম একটি কাজের জন্য। কিন্তু হত্যার সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই।” তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে তিনি হত্যার দায় চাপান জামাতের উপর। তাঁর কথায়, “এটা জামাতের কাজ। মোটরবাইকে আমি বা আমার ভাই কেউ ছিল না।” যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ পেশ করেননি।
এদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভিডিওবার্তার দাবিগুলি যাচাই করা হচ্ছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান, এবং আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযুক্তের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোচনাও অব্যাহত।



