শুক্রবার দিনভর উত্তেজনার পর রাতেও অশান্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িকে ঘিরে উত্তেজনার আবহ কাটতে না কাটতেই, রাতের অন্ধকারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হামলার ঘটনা সামনে আসে।
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ধনতলা এলাকায় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ প্রাক্তন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের খবর, একদল দুষ্কৃতী হঠাৎই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই রাতে সেতাবগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন মেয়র আসলামের বাড়িতেও আগুন ধরানোর খবর পাওয়া যায়। তবে এই দুই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের তরফে রাত পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের হাটহাজারি এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলামের বাড়িতে রাত পৌনে ১১টা নাগাদ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শতাধিক মানুষ প্রথমে বাড়ির সামনে জড়ো হয়, তার পর শুরু হয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।
বাড়িটির কেয়ারটেকার রোকেয়া বেগম জানান, হামলার কিছুক্ষণ পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাড়ির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউনূস প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



