ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে সংসদের দুই কক্ষেই নোটিশ জমা দিল বিরোধী দলগুলি। কাঠগড়ায় বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে লোকসভা ও রাজ্যসভায় ‘রিমুভাল মোশন’ জমা দিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা।
শুক্রবার সংসদের উভয় কক্ষ—Lok Sabha ও Rajya Sabha—এ এই নোটিশ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগেই বিরোধীরা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হবে। সেই ঘোষণার একদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ করা হল।


বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে Election Commission of India-এর ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। বিরোধীদের দাবি, তিনি দায়িত্বে থেকে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষার মতো কাজ করছেন।
আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ বা SIR-এর নামে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও দাবি বিরোধীদের।


বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, এই সমীক্ষা কার্যত শাসক দল Bharatiya Janata Party-কে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই চালানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে সরানো হয়, ঠিক সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় সিইসি-র ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ সংসদের দুই কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাশ না হলে এই অপসারণ সম্ভব নয়।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এমন ‘রিমুভাল মোশন’ সংসদে জমা পড়ল, যা দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।







