পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হতে চলেছে? মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট

কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালুর দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। আগামী মঙ্গলবার শুনানি, রাজ্যের কাছে চাওয়া হয়েছে তথ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হতে চলেছে? মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC) চালুর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল নতুন জনস্বার্থ মামলা। আবেদনকারী পারমিতা দে’র হয়ে এই মামলা করেন সিনিয়র আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলেছে, এই বিষয়ে কোনও পূর্ববর্তী মামলা বিচারাধীন রয়েছে কিনা

বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী মঙ্গলবার নির্ধারণ করেছে।

জনস্বার্থ মামলার মূল দাবি কী?

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে এবং প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য এনআরসি চালু হওয়া জরুরি। এই প্রক্রিয়া শুধু নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, রাজ্যের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার সঙ্গেও যুক্ত।

আবেদনের ভিত্তিতে আদালত রাজ্য সরকারকে জানতে চেয়েছে — এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কোনও মামলার শুনানি চলছে কি না।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হতে চলেছে? মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হতে চলেছে? মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট

এই মামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফের উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ। কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, “বিজেপি পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালু করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গে।”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি ছিল, “অসমে ভারতীয়দেরও ‘বিদেশি’ বলে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।”

অসমের এনআরসি অভিজ্ঞতা: এক ঝলকে

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও নজরদারিতে অসমে এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়।

  • আবেদনকারী: ৩.৩ কোটি

  • তালিকা থেকে বাদ: প্রায় ১৯.০৭ লক্ষ মানুষ

  • কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেও তালিকা ফের যাচাইয়ের অনুমতি পায়নি।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সেই আবেদন খারিজ করে দেন। অভিযোগ, বহু বাদপড়া মানুষ আজও আধার বা সরকারি সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন না।

এই অভিজ্ঞতার আলোকেই এনআরসি-র বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা যথেষ্ট সংবেদনশীল।

আগামী মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিচারপতিরা যদি মামলাটি স্বীকার করেন ও এনআরসি প্রক্রিয়া চালুর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন, তবে পরবর্তী ধাপে রাজ্য এবং কেন্দ্রকে নোটিস পাঠানো হতে পারে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এনআরসি চালুর বিষয়টি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণের অধীন, তাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হাইকোর্টের একক এখতিয়ার নেই। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট যে এই বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে, তা নিশ্চিত। রাজ্যবাসীর মধ্যে এই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের শুনানিতে কী হয়, তার দিকেই এখন নজর রাজ্যের মানুষ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত